বুধবার, জানুয়ারি ১৮, ২০১৭

সিলেটের ইতিহাস ও সুরমা নদী

সুরমা নদীর কোল ঘেঁষে সিলেট
নগরী, সুনামগঞ্জ জেলা সদর। এ
নদীর তীরেই কানাইঘাট,
বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ,
বিশ্বনাথ, ছাতক, দোয়ারাবাজার,
জামালগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জ
পৌরশহর-উপজেলা। বৃহত্তর
সিলেটের ঐতিহ্য আর ইতিহাসের
বাঁকে বাঁকে ছড়িয়ে থাকা অপরূপা
এ নদীর নাম সুরমা। জনশ্রুতি
অনুযায়ী, রাজা ক্ষেত্রপালের
স্ত্রী সুরম্যা এর নাম থেকেই এ
নদীর নাম সুরমা।
আগে এর নাম ছিলো বড়-বকরো বা
বরবক্র নদী। এই বরবক্রের নিদর্শন
আছে প্রাচীন বাংলা সাহিত্য ও
শাস্ত্রে। তীর্থ চিন্তামণিতে
বরবক্র বা বরাক নদীর বর্ণনা
পাওয়া যায়। প্রাচীন পুরাণে
বর্ণিত শরাবতীকে অনেকেই
সিলেটের সুরমা বলে মনে করেন।
বরবক্র নদীতে স্নান করলে সব পাপ
দূর হয় বলে বিশ্বাস প্রচলিত আছে
হিন্দু সমাজে। বলা হয়ে থাকে,
হযরত শাহজালাল তার বাহিনী
নিয়ে সিলেটের উপকণ্ঠে পৌঁছুলে
সুরমা নদীতে চলাচলকারী সব
নৌকা বন্ধ করে দেন রাজা
গৌড়গোবিন্দ।
সে সময় নিজের জায়নামাজে
চেপে সুরমা পার হন শাহজালাল।
রাজা অমর মাণিক্য (১৫৯৭-১৬১১)
অনন্ত স্বর্গে গমনের আশায় বরবক্র ও
মনু নদীর ‘মহাপবিত্র’ সঙ্গমস্থলে
গিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করেছিলেন
বলে বলা আছে সতের শতকের
শেষভাগে রচিত ত্রিপুরার
রাজাদের ইতিহাস সংবলিত
রাজমালা কাব্যে। হিজরি তৃতীয়
শতকে সুরমা তীরের সিলেট
বন্দরের বর্ণনা দিয়েছেন আরব
পর্যটক সোলায়মান ছয়রাফী।
মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬
খ্রিস্টাব্দে হযরত শাহজালালের
সঙ্গে মোলাকাতের জন্য নহরে
আজরক দিয়ে সিলেট আসেন।
আরবীতে আজরক অর্থ নীল রং।
আর নহরে আজরক অর্থ নীল রঙের
নদী। এই নীল পানির নদীই আজকের
সুরমা। এক সময় এই নদীই ছিলো
সিলেটের জীবন-জীবিকার প্রধান
উৎস। নদীর দু’পাড়ে গড়ে উঠেছিল
নগর, বন্দর, জনপদ। সড়ক পথে
যোগাযোগ গড়ে ওঠার আগে
সিলেটের সঙ্গে বাংলা ও এর
পার্শ্ববর্তী ভূ-খন্ডের ব্যবসা-
বাণিজ্য হতো সুরমা কলকাতা
থেকে জলপথে ঢাকা এসে
বুড়িগঙ্গা ও মেঘনা পেরিয়ে পড়তে
হতো সুরমায়। ছোট মেঘনা দিয়ে
সুরমা হয়ে সবচেয়ে সোজা ও
সংক্ষিপ্ত পথে দাউদকান্দি থেকে
সিলেট যাওয়া যেতো। কৃষিই ছিল
তখনকার সুরমাপাড়বাসীর প্রধান
জীবিকা।
হস্ত-কারুশিল্পের পাশাপাশি
লৌহ আর জাহাজ নির্মাণ
শিল্পেরও প্রভাবও ছিলো সুরমা
পাড়ে। আরো ছিলো প্রচুর হাতি।
তাই হাতির দাঁতের পাটি পাওয়া
যেতো সুরমা পাড়ে। চুলের মতো
চিকন বেত তৈরি করে পাটি বোনা
ছাড়াও হাতির দাঁত থেকে তৈরি
হতো পাখা, চুড়ি, চিরুনি এবং খড়ম,
লাঠি, দাবা ও পাশা খেলার গুটি।
মুর্তা নামে এক প্রকার জংলী বৃক্ষ
থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে বেত
সংগ্রহ করে বোনা নকশী শীতল
পাটি এবং বাঁশ-বেতের আসবাবও
এই সুরমা পাড়ের ঐহিত্যময় গৌরব।
সুরমা পাড়ের জঙ্গলে জন্মানো
জালিবেত দিয়ে তৈরি হতো খাট,
চেয়ার, টেবিল, শেলফ, বাক্স-
পেটরা, সোফা।
এ নদীতে মাছ ধরা হতো
ঝাকিজাল, উড়াজাল, উথালজাল,
হৈফাজাল, হাটজাল ও
পেলুইনজালে। মোদ্দা কথা,
সুরমাকে কেন্দ্র করেই গড়ে
উঠেছিলো সিলেটের সংস্কৃতি ও
সভ্যতা। বৃহত্তর সিলেটের প্রকৃতি ও
জীবনের সঙ্গে এ নদীর সম্পর্ক
অবিচ্ছেদ্য। বর্তমানের সুরমা
পাড়ে দেখা যাবে, বড়লাট
নর্থব্রুককে অভ্যর্থনা জানাতে
নির্মিত চাঁদনীঘাটের প্রাচীন
সিঁড়ি। নগরীর প্রবেশ মুখে সুরমার
উপরে স্থাপিত আসামের গভর্নর
মাইকেল ক্কিন এর স্মৃতিধন্য
ধনুকাকার স্টিলের ব্রিজটি তো
সিলেটের আইকন হিসেবেই
পরিচিত হয়ে উঠেছে। চাঁদনীঘাট ও
ক্কিন ব্রিজের পাশেই পৃথিম
পাশার বিখ্যাত জমিদার আলী
আমজাদের গড়া ঘড়িঘর সাক্ষী
বইছে দিল্লীর শাহজাদী
জাহানারার চাঁদনিচকের ঘড়িঘর
অনুকরণের। সিলেটে সুরমার উপরে
আরো গড়া হয়েছে শাহজালাল
ব্রিজ, শাহপরান ব্রিজ ও
টুকেরবাজার ব্রীজ। সুনামগঞ্জ শহর
ঘেঁষেও ব্রিজ আছে সুরমার ওপর।
আরো আছে অসামান্য সব গানের
কারিগর হাছন রাজার বাড়ি ও
জাদুঘর। এই সুরমার জন্ম উত্তর-পূর্ব
ভারতের মনিপুর পাহাড়ের মাও
সংসাংয়ে। ভারতীয় অংশে এর
নাম এখনো বরাকই আছে।
সিলেটের কানাইঘাটে আসামের
কাছাড় জেলার অমলসিদের কাছে
বাংলাদেশের বদরপুরে প্রবেশের
পর দু’ভাগ হয়ে গেছে বরাক।
উত্তরের শাখাটি সুরমা আর
দক্ষিণের শাখাটি প্রবাহিত
হয়েছে কুশিয়ারা নামে। বরাক-
সুরমা-কুশিয়ারার সঙ্গমস্থল
পরিচিত ত্রিবেনী নামে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজারের
কাছে সুরমা ও কুশিয়ারা পুনরায়
মিলিত হয়ে গঠন করেছে মেঘনা
নদী। অমলসিদের ত্রিবেনীতে
বাংলাদেশে প্রবেশ করেই উত্তরে
বাঁক নেওয়া সুরমা নদী
আকাশমল্লিক পর্যন্ত প্রায় সাড়ে
২৬ কিলোমিটার এলাকায়
সীমান্ত হয়ে বেড় দিয়ে আছে
বাংলাদেশকে। ভারতের
খাসিয়া-জয়ন্তিয়া পাহাড় থেকে
আসা লোভাছড়া কানাইঘাটের
কাছে চারিপাড়ায় পতিত হয়েছে
সুরমায়। এই লোভাছড়া দিয়েই
আসে সুরমার ৬০ শতাংশ পানির
যোগান। এর বাইরে বরাকসহ কিছু
শাখা নদী দিয়ে ৩০ ভাগ পানি
মেশে সুরমায়। অবশিষ্ট ১০ ভাগ
আসে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের
বিভিন্ন ছড়া-খাল ও বৃষ্টির প্রবাহ
থেকে। অমলসিদের ত্রিবেনী
থেকে ছাতক পর্যন্ত সুরমার দৈর্ঘ্য
প্রায় ১৬৪ কিলোমিটার।
ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত ৪০
কিলোমিটার। সুনামগঞ্জ থেকে
দক্ষিণ-পশ্চিমে ১১ কিলোমিটার
দূরে পাইন্দা নামক স্থানে সুরমা
ভাগ হয়ে গেছে দুই শাখায়।
দক্ষিণমুখী শাখাটি চাঁদপুর-দিরাই
হয়ে মারকুলিতে মিলিত হয়েছে
কুশিয়ারার সঙ্গে। এক সময় এই
ধারাটিই ছিলো সুরমার মূল প্রবাহ
পথ। তবে পুরাতন সুরমা নামে
পরিচিত এই ধারা এখন মৃতপ্রায়।
এরও আগে সুরমার এই শাখাটি
দিরাই-চাঁদপুরের ৪ কি.মি. উজানে
সুজানগর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে
প্রবাহিত হয়ে আজমিরীগঞ্জে
কালনী নদীতে পড়ে ।
এই ধারার পরিচিতি এখন মরা
সুরমা। সুরমা ও কুশিয়ারার মিলিত
প্রবাহ কালনী নামে দক্ষিণে
কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে নাম
নিয়েছে মেঘনা। দ্বিতীয়
শাখাটি পাইন্দা থেকে ৮
কিলোমিটার এগিয়ে উত্তর-
পশ্চিমে মোড় নিয়ে প্রায় ৯
কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ফের
দক্ষিণ-পশ্চিমে বাঁক নিয়ে
লালপুরে বাইলাই নদীতে পড়েছে।
পরে এই শাখাটি বিভিন্ন নাম
ধারণ করে মেঘনায় মিলিত হয়েছে
দিলালপুরে। অমলসিদের ত্রিবেনী
থেকে দিলালপুরে মেঘনায় পতিত
হওয়া পর্যন্ত সুরমা পাড়ি দিয়েছে
প্রায় ৩৫৫ কিলোমিটার পথ।
মেঘালয় মালভূমির দক্ষিণ থেকে
নেমে আসা বিভিন্ন নদী ও
স্রোতধারা মিলিত হয়েছে সুরমার
ধারায়।

সিলেট-২ আসনে কে হচ্ছেন নৌকার কান্ডারী ?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আরো ২
বছর বাকি। তবে এরই মধ্যে সরকারী
দল আওয়ামীলীগ আগামী
নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে
দিয়েছে। অক্টোবরে আওয়ামী
লীগের সম্মেলনে সভানেত্রী
পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
শনিবার (১৪ জানুয়ারী) প্রথম
ধানমণ্ডিতে নিজের রাজনৈতিক
কার্যালয়ে গিয়ে বলেন, আগামী
নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন ।
তার ঘোষণার পর থেকেই
সারাদেশে আওয়ামীলীগ দলীয়
মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নড়েচড়ে
বসেছেন। ব্যাতিক্রম নয় সিলেট-২
আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ।
প্রকাশ্য না হলেও তারা নীরবে
চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের লবিং।
বরাবরের মতো এবারও সিলেট-২
আসনে কে পাবেন দলীয় টিকেট তা
নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কে
হবেন সিলেট-২ আসনের নৌকার
কান্ডারী ? দলীয় প্রধান ও
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার
হাতে নৌকার দায়িত্ব দেন তা
নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চলছে
গুঞ্জন।
বালাগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও
ওসমানীনগর তিন উপজেলা নিয়ে
গঠিত সিলেট-২ আসন। এই আসনকে
প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই অত্যন্ত
গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে
থাকে। বিগত জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সাথে
সমঝোতায় এখানে আওয়ামীলীগ
থেকে কেউ প্রার্থী হননি। বরাবরই
এই আসনে আওয়ামীলীগ থেকে
একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন
প্রাপ্তির জন্য লড়াই করেন। আর
এতে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পরে
স্থানীয় আওয়ামীলীগ। এবারও এর
ব্যতিক্রম নয়। আগামী নির্বাচনে
এই আসন থেকে লড়তে ইতিমধ্যেই
আওয়ামীলীগের দুই প্রার্থী
রয়েছেন মাঠে। সিলেট জেলা
আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক
শফিকুর রহমান চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য
আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক
আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিন
উপজেলায় তাদের অনুসারীরা নিজ
নিজ নেতার মনোনয়ন প্রাপ্তির
ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে তা যে দলীয় সভানেত্রীর
সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে তা
মানছেন অনেকেই।
২৪ ঘন্টার রাজনীতিবিদ’ হিসেবে
খ্যাত শফিকুর রহমান চৌধুরী।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের
সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ
শফিক চৌধুরী । তার অনুসারী
নেতা কর্মীরা মনে করেন ক্লীন
ইমেজের ত্যাগী এই নেতার
মনোনয়ন না পাওয়ার কোন কারণ
নেই।
শফিকুর রহমান চৌধুরী সিলেট
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদক হিসেবে দলের জন্য
নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে কাজ করে
যাচ্ছেন। সিলেট-২ আসনে
বিএনপির প্রভাবশালী নেতা
ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে
সাংসদ হওয়া সাবেক সাংসদ
হিসেবেও তিনি ছিলেন সফল। ‘২৪
ঘন্টার রাজনীতিবিদ’ হিসেবে
পরিচিত শফিক চৌধুরীর
জনপ্রিয়তা, দলে অবস্থান এসব
নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। দলের
প্রয়োজনে প্রতিটি
স্থানীয় নির্বাচনে রাত-দিন
পরিশ্রম করে দলের জন্য কাজ করে
গেছেন।
গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী
লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার
প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে সিলেট-২
আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা থেকে
নিজেকে সরিয়ে রাখেন শফিক
চৌধুরী। ওয়ান-ইলেভেনে কারারুদ্ধ
হওয়া এই নেতার দলের জন্য
ত্যাগের কারণেই আছেন তুমুল
আলোচনায়।
আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী
যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ন
সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান
চৌধুরী। বহির্বিশ্বের
বাংলাদেশী রাজনীতিতে খুবই
পরিশ্রমী নেতা। নির্বাচন করার
তাড়না থেকেই গত বেশ কিছুদিন
ধরে তিনি নিয়মিত এলাকার
আসছেন। এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন
মূলক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত
করছেন। এলাকায় তরুন
নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ
ইতিমধ্যেই তার বলয়ে যোগ
দিয়েছে। তিন উপজেলায় নিজস্ব
বলয় ঠিক করতে প্রতিনিয়ত
যোগাযোগ অব্যাহত রেখে চলেছেন
আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
এছাড়া ব্রিটেনে অবস্থানরত শেখ
রেহানার স্নেহধন্য হিসেবে তিনি
রয়েছেন পুরো আলোচনায়।একজন
ভালো ও পরিশ্রমী সংগঠক
হিসেবে তার দেশে ও বহির্বিশ্বে
রয়েছে সুনাম। জানা যায়, দল
আন্তপ্রাণ আনোয়ারুজ্জামান
চৌধুরী সর্বশেষ দলীয় সম্মেলনে
দলের কোন পদ পাওয়ার ব্যাপারে
তদবির লবিং করেননি। উদ্দেশ্য
সংসদ নির্বাচনে দলের টিকেট
চাওয়া।
এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা
আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক
আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলু
সুরমানিউজকে বলেন, দলের একজন
ত্যাগী নেতা হিসেবে সিলেট
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ শফিকুর
রহমান চৌধুরীর জুড়ি নেই। তিনি
নিজ এলাকা, দল ও কর্মী
সমর্থকদের নিয়ে অবিরাম রাতদিন
কাজ করে চলেছেন। তাই তৃণমূল
থেকে শুরু করে এলাকার সবার প্রিয়
এই নেতার হাতেই আমাদের দলীয়
সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা নৌকা প্রতীক তুলে
দিবেন।
ওসমানীনগর উপজেলা
আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ
সম্পাদক আব্দাল মিয়া
সুরমানিউজকে বলেন, বালাগঞ্জ-
ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথবাসীর
আগামী দিনের প্রতিনিধি
হিসেবে জাতীয় সংসদে
আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে
আওয়ামীলীগের নৌকার
কান্ডারী করা হবে বলে আমরা
আশাবাদী। তবে তা সম্পুর্ণ দলীয়
প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর
করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি
বলেন, দলীয় সভানেত্রী যার
হাতেই নৌকার দায়িত্ব তুলে
দিবেন আমরা তাঁর হয়ে দলের জন্য
কাজ করে যাব।
যুক্তরাজ্য যুবলীগের সভাপতি ফখরুল
ইসলাম মধু সুরমানিউজকে বলেন,
বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ ও
ওসমানীনগরে আনোয়ারুজ্জামানের
বিকল্প নেই। একমাত্র তিনিই
পারেন এই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে।
ইতিমধ্যেই সবাই দেখেছে তার
পক্ষে এলাকায় গণজোয়ার। দেশে
বিদেশে তার হাজার হাজার
নেতাকর্মীর বিশ্বাস আমাদের
দলীয় নেত্রী আগামী নির্বাচনে
পরিশ্রমী এই নেতাকে মুল্যায়ন
করবেন। আর নেত্রী সবসময় তরুন
নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেছেন।
সিলেট ২ আসনে আগামী
নির্বাচনে আনোয়ারুজ্জামানই
নৌকার কান্ডারী।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ ভারপ্রাপ্ত
সম্পাদক ঝলক পাল সুরমা নিউজকে
বলেন, আমাদের আস্থা ও
বিশ্বাসের জায়গা জননেত্রী শেখ
হাসিনা। তিনি কখনো সিদ্ধান্ত
নিতে ভুল করেননা। নেত্রী ত্যাগী
ও পরিশ্রমী নেতাকেই মুল্যায়ন
করবেন আমাদের বিশ্বাস।
তবে সবকিছুই নির্ভর করছে দলীয়
সভানেত্রীর উপর। তার সিদ্ধান্তই
চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। একাধিকবার
তিনি তার সিদ্ধান্তে চমক
দেখিয়েছেন। এবারও তেমন কিছু
হবেনা তা আগাম বলা যাচ্ছেনা।
সেই চমকের অপেক্ষায় রয়েছেন
সিলেট-২ আসনের তিন উপজেলার
বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৭, ২০১৭

আজ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মামলা ডিসমিস হয়েছে

আজ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ
নির্বাচনের মামলা ডিসমিস হয়েছে।
জনৈক জামালের দায়েরকৃত মামলা
(৯৯/২৯- ২০১১) এর নিষ্পত্তি হয়েছে।
ফেঞ্চুগঞ্জের সমাজসেবী আমিরুল ইসলাম
তুলা ও শ্রমিকনেতা বশারত আলী এই
মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছিলেন। তাদের
পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন
ব্যারিষ্টার জনাব আলতাফ। হাইকোর্টের
বিচারপতি কাজী রেজাউল হক এবং
বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর দ্বৈত
বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছেন। সহকারী
এটর্নী জেনারেল জনাব আব্দুর রকিব
(মন্টু)-এর মারফতে এইমাত্র এই সুসংবাদ
পেলাম।
ফেঞ্চুগঞ্জের বুক থেকে এক জগদ্দল পাথর
নেমে গেল।

সোমবার, জানুয়ারি ১৬, ২০১৭

মানুষকে ভালোবাসুন, আর্ত-মানবতার সেবায় এগিয়ে আসুন আল্লামা ইমাদ উদ্দিন ফুলতলী লোকে লোকারণ্য বালাই হাওর



উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ
আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর
বাড়ি ফুলতলীতে গতকাল রোববার লাখো
মানুষের ঢল নেমেছিল। আল্লামা ফুলতলী
(র.)-এর মাজার, মাহফিলের পেন্ডাল,
বাজার, রাস্তাঘাট সবই ছিল লোকে
লোকারণ্য। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন
প্রান্ত থেকে ফুলতলী অভিমুখী জনতার
স্রোত ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল সাড়ে
১০টায় এতিমখানার হাজারো এতিমকে
নিয়ে হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব
কিবলাহ (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য
দিয়ে শুরু হয় মাহফিলের কার্যক্রম। এরপর
অনুষ্ঠিত হয় খতমে কুরআন ও দালাইলুল
খায়রাত শরীফের খতম। যোহরের পূর্বেই
লোকে লোকারণ্য হয় বালাই হাওর।
বাদ যোহর খতমে খাজেগান ও দুআ শেষে
মুরিদীন-মুহিব্বীনের উদ্দেশ্যে তা’লীম-
তরবিয়ত ও হৃদয়গ্রাহী বয়ান পেশ করেন
আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর
সুযোগ্য উত্তরসূরী উস্তাযুল উলামা ওয়াল
মুহাদ্দিসীন, মুরশিদে বরহক হযরত আল্লামা
ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ
ফুলতলী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,
‘আমাদের মাতা-পিতা আমাদেরকে
মানুষের মতো মানুষ হবার কথা বলেছেন।
কিন্তু আমরা মানুষ হতে পারিনি।
আমাদের প্রকৃত মানুষ হবার চেষ্টা করতে
হবে। মেহমানকে সম্মান ও প্রতিবেশীর
সাথে উত্তম আচরণ করতে হবে। সবসময়
ভালো কথা বলতে হবে। কেননা ভালো
কথা হলো সদকাবিশেষ।’ তিনি বলেন,
খিলওয়াত তথা নির্জনবাস অত্যন্ত জরুরী
বিষয়। আমাদের পীর ও মুরশিদ হযরত ফুলতলী
ছাহেব কিবলাহ (র.) বহুবার চিল্লা
করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মধ্যে
অনেকে এখনও তরীকার চিল্লা করে
থাকেন। যারা তরীকার শুগল-আশগাল ও
যিকর-আযকারে নিবিষ্ট হন তাদের সতর্ক
থাকা প্রয়োজন। কেননা আল্লাহর পথে
অগ্রসর হলে শয়তান ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা
করে।’ বাংলাদেশ আন্জুমানে আল ইসলাহর
সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ হুছামুদ্দীন
চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী
বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা
আহমদ হাসান চৌধুরী’র যৌথ পরিচালনায়
মাহফিলে সম্মানিত অতিথি হিসেবে
বক্তব্য রাখেন মক্কা মুকাররামার মসজিদুল
খায়র-এর সম্মানিত খতীব সায়্যিদ আল-
হাবীব মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল আইদারুছ,
উপমহাদেশের প্রখ্যাত শায়খুল হাদীস
আল্লামা হবিবুর রহমান, উজানডিহির পীর
ছাহেব মাওলানা সায়্যিদ মোস্তাক আহমদ
আল মাদানী, আল্লামা নজমুদ্দীন চৌধুরী
ছাহেবজাদায়ে ফুলতলী, ভারতের উত্তর
প্রদেশের রামপুরের প্রখ্যাত বুযুর্গ খতীবে
আ’যম আল্লামা ওজীহ উদ্দীন রামপুরী (র.)-
এর সুযোগ্য উত্তরসূরি ড. শাআইরুল্লাহ খান
রামপুরী, রামপুর নবাবী মসজিদের ইমাম ও
খতীব, মাদরাসায়ে জামিউল উলূম
ফুরকানিয়ার উস্তায হযরত মাওলানা
ই’তিসামুল্লাহ খান রামপুরী, মাওলানা
মাকারিমুল্লাহ খান রামপুরী, দৈনিক
ইনকিলাবের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা
কবি রূহুল আমীন খান, মাওলানা শিহাব
উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, মুফতী মাওলানা
গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী,
সোবহানীঘাট কামিল মাদরাসার
প্রিন্সিপাল মাওলানা কমরুদ্দীন চৌধুরী,
বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর
মহাসচিব মাওলানা এ.কে.এম মনোওর আলী,
ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদরাসার
প্রিন্সিপাল মাওলানা কাফীলুদ্দীন
ছালেহী, মুফতী মাওলানা আবূ নছর
জিহাদী, জালালপুর জালালিয়া কামিল
মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা জ.উ.ম
আব্দুল মুনঈম, সৎপুর কামিল মাদরাসার
উপাধ্যক্ষ মাওলানা ছালিক আহমদ,
দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল
মাদরাসার মুহাদ্দিছ মাওলানা
বদরুজ্জামান রিয়াদ, তালামীযে
ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি ফখরুল
ইসলাম।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ও ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন শেখ
হাসিনার দশম জাতীয় সংসদের সফলতার
৩য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ও নবগঠিত ফেঞ্চুগঞ্জ
উপজেলা ও ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের
কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল
বের করা হয়। মিছিলটি ফেঞ্চুগঞ্জ
বাজারের থানার রোড পয়েন্ট থেকে শুরু
হয়ে স্হানীয় নুরপুরের শেখ রাসেল
অডিটিয়ামে এসে এক আলোচনা সভা ও
ফুলের শুভেচ্ছায় মিলিত হয়।
সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাহমুদ-উস-সামাদ
চৌধুরী-কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান
নবগঠিত ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ও ডিগ্রী
কলেজ ছাত্রলীগ। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা
ছাত্রলীগের সভাপতি জুনেদ আহমদ এর
সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে
উপস্হিত ছিলেন সাংসদ মাহমুদ-উস-সামাদ
চৌধুরী।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন-
সাধারণ সম্পাদক শেখ টিটু ও ডিগ্রী কলেজ
ছাত্রলীগের সভাপতি জুবের আহমদ সনির
যৌথ পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য
রাখেন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা
আওয়ামীলীগের সভাপতি শওকত আলী, সহ
সভাপতি মিছবা আহমদ চৌধুরী, যুগ্ন-
সাধারণ সম্পাদক জাহিদ ইকবাল সুনাম,
সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল কয়েছ,
দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান জাহাঙ্গীর,
নিউ জার্সি আওয়ামীলীগের সাধারণ-
সম্পাদক শাহজাহান শাহ্, ফেঞ্চুগঞ্জ
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক
মাসার আহমদ শাহ্। অন্যান্যদের মধ্যে
বক্তব্য রাখেন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা
ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জালাল আহমদ,
আরিফ আহমদ, মেহরাব হোসেন জুনেল,
নাহিদ সুলতান পাশা, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক
রেজান আহমদ শাহ্, জাহাঙ্গীর আলম দিপু,
সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদুর রহমান
ডেনেছ, তোফায়েল আহমদ ইমন, শুয়েব
আহমদ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন,
উপজেলা ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক
সম্পাদক মাহফুজ আহমদ, ক্রীড়া সম্পাদক
আব্দুল কাইয়ূম, পরিবেশ বিষয়ক শেখ মুমিনুল
হাসান, ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সহ-
সভাপতি আলী হাসান, মিথুন ভৌমিক জয়,
শিহাব আহমদ, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক হৃদয়
অধিকারী, মাসুম আহমদ, সাংগঠনিক
সম্পাদক আল আমিন ফাহিম, ছাত্রলীগ
নেতা এ.জে সানি, জায়েদ আহমদ জয়,
উজ্জল আহমদ, সৌরভ, মুহিত, নীরব, মিঠু,
রিফুল, ইমন,জায়েদ, শিপন, মাসুম, কাফার,
কামরুল, নাছিম, প্রিন্স, সুহেল, জয়নুল,
তানভীর, মাহফুজ, লায়েক, সুজেদ, রিফাত,
কাওসার প্রমুখ।

ফেঞ্চুগঞ্জ কুশিয়ারা পাওয়ার লিঃ উদ্যোগে গরীব দুস্থদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

ফেঞ্চুগঞ্জ কুশিয়ারা পাওয়ার কোম্পানী
লিঃ এর উদ্যোগে গতকাল ১৫ জানুয়ারী
রোববার সকালে এলাকার গরীব দুস্থদের
জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন
করা হয়। এ উপলক্ষে ফেঞ্চুগঞ্জ পাওয়ার
কোম্পানীর পরিচালক এস মহালিংগম এর
সভাপতিত্বে ও কে কে শর্মার পরিচালনায়
মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট-৩
আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী।
বক্তব্য রাখেন কুশিয়ারা বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের
সিএ সুমিল বাইন, পিডিবি ৯০ মেগাওয়ার্ট
বিদ্যুত কেন্দ্রের ম্যানেজার নুরুল আমিন,
কুশিয়ারা বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের ম্যানেজার
দিলিপ জুজালিকার। এ সময় উপস্থিত
ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মহিব
উদ্দিন বাদল, জাহিদুল ইসলাম সুনাম,
মিসবাহ হোসেন চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক
লীগ নেতা আব্দুল আউয়াল কয়েস সহ
কুশিয়ারা পাওয়ার কোম্পানী বিভিন্ন
কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। মেডিকেল
ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে
গরীব পুরুষ এবং মহিলা রোগীর চিকিৎসা ও
ঔষধ প্রদান করা হয়।

রবিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০১৭

ইসলামী ব্যাংকের মত কমার্স ব্যাংকেও পরিবর্তন আসবে : অর্থমন্ত্রী

 অর্থমন্ত্রী
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ইসলামী
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের মতো
কমার্স ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেও
পরিবর্তন আনা হবে।
সোমবার দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুড়া চা
বাগানে চা শ্রমিকদের আয়োজিত এক
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে
তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন,
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে
পরিবর্তন এসেছে। এখন কমার্স ব্যাংকে
পরিবর্তন আসবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন,
দেশে এবার রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন
হয়েছে। যা আমাদের চাহিদার সমতুল্য।
তবে খতিয়ে দেখতে হবে এ উৎপাদন
সাসটেইনেবল কি না। যদি সাসটেইনেবল
উৎপাদন হয়, তবে বিদেশ থেকে চা
আমাদানি করা হবে না।
এদিকে, বিকেলে সিলেট নগরীর
রিকাবিবাজারে মোহাম্মদ আলী
জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে উন্নয়ণ মেলায়
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
‘উন্নয়নের গণতন্ত্র, শেখ হাসিনার
মূলমন্ত্র’ শ্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া এই
মেলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের
সেবা স্টলসহ ৮৩টি স্টল রয়েছে।
আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত চলবে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা
পর্যন্ত চলবে এ মেলা। মেলার উদ্বোধনী
আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল
মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী মেলার
উদ্বোধনের সময়ই সব কিছু বলে দিয়েছেন,
আমার আর কিছু বলার নেই। তিনি সকলকে
মেলায় আসার আহ্বান জানান।
সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল
আবেদীনের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত
জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহীদুল
ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য
রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের
চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, সিলেট
বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দীন
আহমেদ, সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন
আহমদ কামরান ও জাতিসংঘে
বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি
ড. একেএম আব্দুল মোমেন। মঞ্চে উপস্থিত
ছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল
আহসান, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার
গোলাম কিবরিয়া ও জেলা আওয়ামী
লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান
চৌধুরী। এর আগে মেলা উপলক্ষে বিকেল
আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসন কার্যালয়
থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়।

শনিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০১৭

আল্লামা ফুলতলী (র.) ঈসালে সওয়াব সফলের লক্ষে ফেঞ্চুগঞ্জে প্রচার মিছিল ও দোয়া মাহফিল


উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন,  শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী (র.) এর রবিবারের ঈসালে সওয়াব মাহফিল উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া ২ নং মাইজগাও ইউনিয়ন ও পুর্ব - পশ্চিম আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে ফরিদপুর নয়াবাজারে এক প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিল শেষে পথসভায় মাইজগাও ইউনিয়ন সভাপতি হাফিজ মারুফ আহমদের সভাপতিত্বে মাইজগাও ইউনয়ন অর্থ সম্পাদক আবু তায়েফ শিবলু উপস্থাপনায়
বক্তব্য রাখেন মাইজগাও ইউনিয়ন আল ইসলাহ সভাপতি বদরুল ইসলাম বেলাল, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা তালামীযের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দীন, সহ-প্রচার সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম কুদ্দুছ, ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ সদস্য সচিব হাবিলুর রহমান জুয়েল, সহ-সভাপতি কামরান আহমদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান,।
অন্যন্যদের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন পশ্চিম ফরিদপুর আঞ্চলিক শাখার সহ-সভাপতি শরিফ আহমদ, পুর্ব ফরিদপুর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, হাটুভাঙ্গা মাদ্রাসা সাধারণ সম্পাদক হাফিজ জুয়েল, শেফুল, ছুফিয়ান, ফখরুল, রায়হান, সাহেদ,তাজউদ্দিন, জাবেল,।

দক্ষিণ সুরমায় ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয়
স্থায়ী কমিটির সদস্য, জাতীয়
সংসদের প্যানেল স্পীকার মাহমুদ উস
সামাদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান
সরকার গ্রাম বাংলার জনসাধারণের
জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ
ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে খোঁজে
খোঁজে সড়ক নির্মাণ, পাকাকরণ,
ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে।
ফলে জনগণ তাদের উৎপাদিত ফসলাদি
উপজেলা সদর ও জেলা সদরের
হাটবাজারে নিয়ে সঠিক দামে বিক্রি
করতে সক্ষম হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা
উন্নত হওয়ার কারণে জনগণ চলাচল
সহজতরের পাশাপাশি আর্থিকভাবে
লাভবান হচ্ছেন।
মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী শুক্রবার
সকাল থেকে দিনব্যাপী দক্ষিণ সুরমা
উপজেলার দাউদপুর ও কুচাই ইউনিয়নে ৫৪
লাখ টাকা ব্যয়ে ৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের
পৃথক পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো
বলেন।
তিনি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ইলাইগঞ্জ-
আশুগঞ্জ বাজার সড়ক সংস্কার কাজ
শেষে উদ্বোধন, ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে
পানিগাঁও সড়কের খালের উপর ব্রীজ
নির্মাণ শেষে উদ্বোধন, কুচাই
ইউনিয়নে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে
লোহাজুরি বিলের রাস্তার রহমতের
জাঙ্গাল খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ
শেষে উদ্বোধন।
অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত ছিলেন
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা
সফিক উদ্দিন আহমদ, উপজেলা সহকারী
প্রকৌশলী এম এ হক, মোগলাবাজার
থানার ওসি খায়রুল ফজল, দাউদপুর
ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম খলিল,
সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম আলম,
আওয়ামীলীগ নেতা শাহ ছমির উদ্দিন,
শাহ আলী রেজা, পংকি মিয়া,
দাউদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের
সভাপতি আহমদ হোসেন খোকন, সা.
সম্পাদক আতিকুল হক, কুচাই ইউনিয়ন
আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রহমান
আনা, সা. সম্পাদক আক্তার হোসেন,
সেলিম আহমদ মেম্বার, আব্দুল বাছিত
ছুবা মেম্বার, সৈয়দ ফয়জুল ইসলাম
মেম্বার, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম
সাইস্তা, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির
পরিচালক সাইফুদ্দিন আল ফারুক মিঠু,
প্রবীণ মুুরব্বি সফিক মিয়া, হাজী
ইকবাল হোসেন, দক্ষিণ সুরমা
প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল
ইসলাম ইমরান, শরীফ আহমদ মিঠু
মেম্বার, মিসবাহউর রহমান টুনু মিয়া
মেম্বার, কাবুল আহমদ মেম্বার, নূরুল
ইসলাম, আব্দুল মালিক, জামাল উদ্দিন,
মাহতাবুর রহমান, প্রবাসী ফজলুর
রহমান প্রমুখ।

প্রস্তুতি সম্পন্ন ||আল্লামা ফুলতলী (র.) এর ঈসালে সাওয়াব মাহফিল রবিবার

উপমহাদেশের প্রখ্যাত
বুযুর্গ, ওলীয়ে কামিল শামসুল উলামা হযরত
আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর
৯ম ইন্তেকাল বার্ষিকী উপলক্ষে
আগামীকাল (১৫ জানুয়ারি) রবিবার
জকিগঞ্জে ফুলতলী ছাহেববাড়ি সংলগ্ন
বালাই হাওরে অনুষ্ঠিত হবে বিশাল ঈসালে
সওয়াব মাহফিল। মাহফিলের সকল প্রস্তুতি
ইতোমধ্যে প্রায় শেষ হয়েছে।
বালাই হাওরে তৈরি হয়েছে বিশাল
প্যান্ডেল ও সুদৃশ্য মঞ্চ। গাড়ী পার্কিং-এর
জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে নির্ধারিত মাঠ।
আগত মেহমানদের খাবারের জন্য
প্রতিবারের মতো করা হয়েছে বিশাল
আয়োজন। মাহফিলের প্রয়োজনীয় দিক-
নির্দেশনা সম্বলিত লিফলেট ইতোপূর্বে
সিলেট বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিতরণ
করা হয়েছে।
রতনগঞ্জ বাজারে ছাহেববাড়ির প্রবেশ
পথে টানানো হয়েছে মাহফিলের
মানচিত্র। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত
থাকবে পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি
সার্বিক শৃঙ্খলার জন্য প্রস্তুত হয়েছে প্রায়
হাজারো স্বেচ্ছাসেবক। মাহফিল উপলক্ষে
ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন
মক্কা মুকাররামার মসজিদুল খায়র-এর খতীব
সায়্যিদ আল হাবীব মুহাম্মদ আবদুল্লাহ
আল-আইদারুস।
শনিবার (১৪ জানুয়ারি) এসে পৌঁছবেন
ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ,
খতীবে আ’যম আল্লামা ওজীহ উদ্দীন খান
রামপুরী (র.)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরি, উর্দু
পত্রিকা ‘দ্বিয়ায়ে ওজীহ’র সম্পাদক ড.
শাহআইরুল্লাহ খান রামপুরী, রামপুর নবাবী
মসজিদের নায়েবে ইমাম ও খতীব,
মাদরাসায়ে জামিউল উলূম ফুরকানিয়ার
উস্তায হযরত মাওলানা ই’তিসামুল্লাহ খান
রামপুরী ও মাওলানা মাকারিমুল্লাহ খান
রামপুরী। এছাড়া অন্যান্য অতিথিবৃন্দ কাল
এসে পৌঁছবেন।
সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে আল্লামা ফুলতলী
ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর মাযার যিয়ারতের
মাধ্যমে শুরু হবে দিনের কার্যক্রম। এরপর
খতমে কুরআন ও দুআর মাধ্যমে শুরু হবে মূল
অনুষ্ঠান। এতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে
রয়েছে খতমে বুখারী, খতমে খাজেগান,
দালাইলুল খায়রাত শরীফের খতম, যিকর
মাহফিল, বিষয়ভিত্তিক বয়ান ও
স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা।
মাহফিলে তা’লীম-তরবিয়ত প্রদান করবেন
আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর
সুযোগ্য উত্তরসূরী উস্তাযুল উলামা ওয়াল
মুহাদ্দিসীন, মুরশিদে বরহক হযরত আল্লামা
ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ
ফুলতলী।
প্রতি বছরের মতো এবারও মাহফিলে
সমবেত হবেন লাখো মানুষ। মাহফিলের
দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত পীর-মাশায়িখ,
আলিম-উলামা, ইসলামী শিক্ষাবিদ,
চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য
রাখবেন।

শুক্রবার, জানুয়ারি ১৩, ২০১৭

ফেঞ্চুগঞ্জে সৈয়দ মুজিবুর রহমান কয়েস স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে সৈয়দ মুজিবুর
রহমান কয়েস স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের
ফাইনাল খেলায় মামু-ভাগনা
স্পোর্টিং ক্লাব টাইব্রেকারে ৩-২
গোলে আর.পি বয়েজ রাজনপুরকে
পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব
অর্জন করেছে।
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) ফেঞ্চুগঞ্জের
কাসিম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে
ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
শতশত ক্রীড়ামোদী দর্শকদের
উপস্থিতিতে খেলার শুরু থেকে শেষ
পর্যন্ত উভয় দলের খেলোয়াড় আক্রমন
পাল্টা আক্রমণের মধ্যে দিয়ে খেলতে
থাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে
খেলায় কোনও দল গোল করতে না-
পারায় খেলা টাইব্রেকারে গড়ায়।
টাইব্রেকারে মামু-ভাগনা স্পোর্টিং
ক্লাব ৩-২ গোলে আর.পি বয়েজকে
পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব
অর্জন করে।
খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী সভা
অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব রাজনপুর
ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি, বিশিষ্ট
ক্রীড়া সংগঠক এনায়েত হোসেন রুহেল।
আহসানুল করিম জেমন ও বিলাল আহমদ
শাহের যৌথ পরিচালনায় সভায় প্রধান
অতিথি হিসেবে খেলোয়াড়দের মধ্যে
পুরস্কার বিতরণ করেন বিশিষ্ট যুব
সংগঠক, ফেঞ্চুগঞ্জ যুব-সংঘের সভাপতি
রাজু আহমদ রাজা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন- সমাজসেবী আবুল
হোসেন শাহ, সাংবাদিক শাহ মুজিবুর
রহমান জকন, ক্রীড়া সংগঠক
ওহিদুজ্জামান চৌধূরী ছুফি,
সাংবাদিক জুয়েল খান, উপজেলা
ছাত্রদলের আহবায়ক এম.জে আহমেদ
জাবেদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক
আহবায়ক মাসার আহমদ শাহ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- ব্যবসায়ী আব্দুল
হাই খসরু, নজমুল খান, সৈয়দ শামসুল
আলম বাচ্চু ও উপজেলা ছাত্রলীগের
সভাপতি মো. জুনেদ আহমদ।
সহস্রাধিক ক্রীড়ামোদী দর্শক
ফাইনাল খেলাটি উপভোগ করেন।
খেলা চলাকালীন সময়ে ধারাবর্ণনা
দেন জাকারিয়া আহমদ খান ও রাসেদ
আহমদ।
রাজনপুর ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে
সৈয়দ মুজিবুর রহমান কয়েস স্মৃতি ফুটবল
টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হয়। টুর্নামেণ্টে
মোট ৩২টি দল অংশগ্রহণ করে।

জাতীয় ফুটবল দলে কে হচ্ছেন নতুন কোচ

কে হচ্ছেন জাতীয় দলের কোচ?
ম্যানেজার পদেও হতে পারে রদবদল
আপনারা কাকে চাচ্ছেন?
জাতীয় ফুটবল দলে কে হচ্ছেন নতুন কোচ

চলতি বছরে আন্তর্জাতিক শিডিউলে তেমন
ব্যস্ততা নেই। মার্চে হবে বঙ্গবন্ধু
আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ। ডিসেম্বরে সাফ
চ্যাম্পিয়নশিপ। এ ছাড়া বাফুফের টার্গেট
রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলার।
বাফুফের সব সময় পছন্দ বিদেশি কোচের।
আপাতত সেই চিন্তা করছে না। লোকালদের
হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে চাচ্ছে।
নির্দিষ্ট করে কাউকে ঠিক না করলেও
শোনা যাচ্ছে মারুফুল হক, সাইফুল বারী
টিটু ও কামাল বাবুর নাম।
টিটু অবশ্য ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় শেখ
কামাল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে
চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ হচ্ছেন।
বাস্তবতার কারণে তার পক্ষে জাতীয়
দলের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। বাকি
থাকল মারুফ ও কামাল বাবু। মারুফের
প্রশিক্ষণে গেল সাফ চ্যাম্পিয়ন ও বঙ্গবন্ধু
গোল্ডকাপে জাতীয় দল চরম ব্যর্থতার
পরিচয় দিয়েছে। তা ছাড়া ঘরোয়া আসরেও
তিনি ছিলেন ফ্লপ। শক্তিশালী দল গড়ার
পরও শেখ রাসেলের পারফরম্যান্স ছিল
হতাশাজনক। তাই পেশাদার লিগে প্রথম
পর্বের শেষের দিকে মারুফকে সরিয়ে
দেওয়া হয়। প্রশ্ন উঠেছে, ব্যর্থ হওয়ার পরও
মারুফের নাম আলোচনায় আসবে কেন?
ক্যারিয়ারে বড় কোনো দলের কোচের
দায়িত্ব পালন করেননি কামাল বাবু। তবে
প্রতিবারই ঘরোয়া আসরে আলোচিত হচ্ছেন
তিনি। এবার তো রীতিমতো আলোড়ন
তুলেছেন। অচেনা-অজানা খেলোয়াড় নিয়ে
রহমতগঞ্জ লিগের প্রথম পর্বে অসাধারণ
পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। মনে হচ্ছিল
চ্যাম্পিয়ন ফাইট দেবে। দ্বিতীয় পর্বে
অবশ্য সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে
পারেনি। গোল পার্থক্যে তারা শেষ
পর্যন্ত সপ্তম স্থান দখল করে। এ নিয়ে অবশ্য
নানা গুঞ্জন রয়েছে। ঘরোয়া আসরে
কামাল বাবু নিঃসন্দেহে সার্থক কোচ।
তবে জাতীয় দলের চাপটা নিতে পারবেন
কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বড় দল
ছাড়া দেশের ফুটবল ইহিতাসে এ পর্যন্ত
জাতীয় দলের কোচ হতে পারেননি কেউ।
কামাল বাবু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটাতে
পারেন কিনা দেখার বিষয়। আর জাতীয়
দলের এমন বিপর্যয়ে বাফুফে চাইলেও মারুফ
সাড়া দেবেন কি? তাহলে কে হচ্ছেন
জাতীয় দলের কোচ। আগামী সপ্তাহে
বাফুফের নির্বাহী কমিটির বৈঠক রয়েছে।
সেখানেই নাকি বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
কোচের নাম কেউ স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন
না।
বাফুফে চাচ্ছে লোকাল কোচ। যদি না
পাওয়া যায়? এ ক্ষেত্রে ঘুরেফিরে আসছে
নেদারল্যান্ডসের লোডডিক ডি ক্রুইফের
নাম। তিনি আপৎকালীন কোচের দায়িত্ব
পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
কোচের পাশাপাশি ম্যানেজার নিয়ে
চলছে গুঞ্জন। সত্যজিত দাস রুপু এতদিন
দায়িত্বে থাকলেও শোনা যাচ্ছে আমিরুল
ইসলাম বাবুর নাম। জানা গেছে, বাফুফে
সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন চাচ্ছেন
ম্যানেজার পদে পরিবর্তন আনতে।
দেশের ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে
জাতীয় দলকে আপাতত আপনারা কাদের
হাতে তুলে দিতে চাচ্ছেন??? আর আমাদের
কি কি অংশে পরিবর্তন আনা দরকার, কোন
কোন জায়গায় গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলে
আউটপুট বেশি পাবো

তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু

ফেঞ্চুগঞ্জ পতিদিন ডেস্ক:
আমবয়ানের মাধ্যমে তুরাগ নদীর তীরে
টঙ্গীতে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার
প্রথম পর্ব। দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো
মুসল্লি এই ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) ফজরের
নামাজের পর হজ্জের
পর বিশ্ব মুসলিমের
বৃহৎ জমায়েত শুরু হয়। এছাড়া আজ শুক্রবার
ইজতেমা ময়দানে জুমার নামাজ হবে।
নামাজের আগে হেদায়েতি বয়ান করা
হবে।
আগামী রোববার জোহরের নামাজের
আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে
শেষ হবে প্রথম পর্ব। চার দিন পর ২০
জানুয়ারি থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব।
২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য
দিয়ে ওই পর্ব শেষ হবে।
ইজতেমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল
হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া
বাণী দিয়েছেন।
ইজতেমা এলাকায় পাঁচ স্তরের
নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এবারই প্রথম ইজতেমার চারদিক এবং
বাইরে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা
হয়েছে।
তুরাগ তীরে ১৬০ একর জায়গাজুড়ে চট ও
নাইলনের কাপড় দিয়ে সুবিশাল
প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। বিদেশি
মেহমানদের জন্য ময়দানের উত্তর-পশ্চিম
কোণে টিনের ছাউনি দিয়ে বিশেষ
পদ্ধতিতে থাকা-খাওয়াসহ সব ধরনের
ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ
থেকে আসা মুসল্লিরা ইতিমধ্যে
ময়দানের বিদেশি নিবাসে অবস্থান
নিতে শুরু করেছেন। তবে কতজন বিদেশি
মুসল্লি মেহমানখানায় এসে পৌঁছেছেন
সেই পরিসংখ্যান গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত
কেউ বলতে পারেননি।
ইজতেমাস্থলে যাতায়াতের সুবিধার্থে
সড়ক ও জনপথের রাস্তাগুলো সংস্কার
এবং ফুট ওভারব্রিজগুলো চলাচলের
উপযোগী করা হয়েছে। মুসল্লিদের
যাতায়াতের জন্য সেনাবাহিনীর
ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ
নদের ওপর সাতটি ভাসমান পন্টুন সেতু
নির্মাণ করেছেন।
মুসল্লিদের ওজু, গোসল ও খাবারের জন্য
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও টঙ্গী
পৌরসভার উদ্যোগে প্রতি ঘণ্টায় প্রায়
তিন কোটি ৫৫ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি
সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
টঙ্গী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের
মেডিক্যাল অফিসার ডা. পারভেজ
জানান, মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা
প্রদানে প্রথম পর্বে ব্যাপক প্রস্তুতি
হাতে নেওয়া হয়েছে। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট
সরকারি হাসপাতালটিকে ইজতেমার
জন্য অস্থায়ীভাবে ১০০ শয্যায় উন্নীত
করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণ
কক্ষ, হৃদরোগ ইউনিট, বক্ষব্যাধি/অ্যাজমা
ইউনিট, ট্রমা (অর্থোপেডিক) ইউনিট,
বার্ন ইউনিট, স্যানিটেশন টিম এবং ১৪টি
অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া চক্ষু, মেডিসিন, সার্জারিসহ
বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
পালাক্রমে চিকিৎসাসেবা দেবেন।
মুসল্লিরা ইতিমধ্যে ময়দানে স্ব-স্ব
খিত্তায় এসে অবস্থান নিচ্ছেন। দেশের
৬৪টি জেলার মধ্যে ৩২টির মুসল্লিরা এ
বছর দুই দফায় ইজতেমায় অংশ নেবেন।
প্রথম পর্বে ১৬ জেলা এবং দ্বিতীয় পর্বে
বাকি ১৬ জেলার মুসল্লিরা ইজতেমায়
অংশগ্রহণ করবেন।

টেস্টে অন্য বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক:
সাম্প্রতিককালে একদিনের ক্রিকেটে
বাংলাদেশের সাফল্য ছিলো ইর্ষনীয়।
বিপরীতে টেস্টে তেমন উল্লেখযোগ্য
সাফল্য নেই। এঅবস্থায় ওয়ানডেতে
টাইগাররা সকল প্রতিপক্ষের সমীহ আদায়
করে নিলেও টেস্ট পারফরম্যান্সের জন্য
প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হতো।
অথচ এবারের নিউজিল্যান্ড সফরে দেখা
গেলো ভিন্ন চিত্র। ওয়ানডেতে
স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই
পারলো না বাংলাদেশ। টি২০তেও একই
চিত্র। অথচ টেস্টের শুরুতেই দেখা
মিললো বদলে যাওয়া বাংলাদেশের।
আসল টাইগারদের।
ওয়েলিংটনকে রেকর্ড বন্যায় ভাসালো
বাংলাদেশে। সাকিব আল হাসানের
ডাবল সেঞ্চুরি ও মুশফিকুর রহিমের দেড়শ
ছাড়ানো ইনিংসের সুবাদে টেস্টের
দ্বিতীয় দিনেই চালকের আসনে
টাইগাররা। দিনশেষে প্রথম ইনিংসে
বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৫৪২
রান। তবে তিন ওভার বাকি থাকতে
দিনের খেলা শেষ হওয়ার শেষ বলে আউট
হয়ে যান মিরাজ।
এদিন তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে
টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেন সাকিব।
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এটি
সাকিবের টানা দ্বিতীয় শতক। ২০১০
সালে হ্যামিল্টনে সেঞ্চুরি করেন এই
অলরাউন্ডার। ২৭৬ বল মোকাবেলা করে
৩১ চারের সাহায্যে ২১৭ রান করেন
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এর আগে ২০১১
সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪৪ রানই
এত দিন সাকিবের সর্বোচ্চ রানের
রেকর্ড ছিল।
প্রথম দিনের ৫ রান নিয়ে খেলতে নামা
সাকিব আজ যোগ করেন আরো ১৯৫ রান।
১২৫তম ওভারে কলিন গ্র্যান্ডহোমের বলে
পয়েন্ট দিয়ে চার মেরে ডাবল সেঞ্চুরি
পূর্ণ করেন সাকিব।
তৃতীয় বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান
হিসেবে টেস্টে দারুণ এই রেকর্ড গড়লেন
সাকিব। এর আগে শ্রীলঙ্কার গলে প্রথম
বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে
টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেন মুশফিকুর
রহিম। ২০০ রান করেন বাংলাদেশ
অধিনায়ক। এর পর ২০১৫ সালে
পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০৬ রান করেন
তামিম ইকবাল।
ডাবল সেঞ্চুরির দিন তৃতীয় বাংলাদেশী
ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে তিন হাজার
রানের মাইলফলকও ছুঁলেন বিশ্বসেরা এই
অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে তিন হাজার
রান ও বল হাতে ১৫০ উইকেট নেওয়া ১৪তম
অলরাউন্ডার তিনি।
এদিন তামিম-ইমরুলের ৩শ’ ১২ রানের
রেকর্ড ভেঙে ৩৫৯ রানের সেরা
পার্টনারশিপের রেকর্ড গড়েন সাকিব-
মুশফিক জুটি। আর পঞ্চম জুটিতে বিশ্বে
চতুর্থ সেরা জুটি এটি। তবে ব্যক্তিগত ১শ
৫৯ রানে আউট হন অধিনায়ক মুশফিকুর
রহিম।
নিউজিল্যান্ডের মাঠে এটি সফরকারী
দলগুলোর যেকোনো উইকেট জুটিতে নতুন
রেকর্ড। তারা ভাঙেন ৪৪ বছর পুরোনো
জুটির রেকর্ড। ১৯৭৩ সালে ডানেডিন
টেস্টে চতুর্থ উইকেটে ৩৫০ রান যোগ
করেছিলেন পাকিস্তানের আসিফ ইকবাল
ও মুশতাক মোহাম্মদ। সেটিই ছিল
নিউজিল্যান্ডে বিদেশী দলগুলোর
সর্বোচ্চ জুটি। সাকিব-মুশফিকের এই
জুটির ওপরে যেকোনো দল মিলিয়েই
আছে মাত্র দুটি জুটি।
১৯৯১ সালে এই ওয়েলিংটনে তৃতীয়
উইকেটে ৪৬৭ যোগ করেছিল ক্রো-
জোন্সের জুটি। সেটি এখনো
নিউজিল্যান্ডে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড
হয়ে আছে।
সব দেশ মিলিয়ে প্রতিপক্ষে মাটিতে
পঞ্চম উইকেটে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ
জুটির রেকর্ড। ১৯৯৭ সালে দক্ষিণ
আফ্রিকা সফরে জোহানেসবার্গ টেস্টে
স্টিভ ওয়াহ আর গ্রেগ বিলওয়েট পঞ্চম
উইকেটে ৩৮৫ রান এনে দিয়েছিলেন
অস্ট্রেলিয়াকে। এরপর প্রতিপক্ষের
মাঠে সাকিব-মুশির জুটিটাই পঞ্চম
উইকেটের রেকর্ড।
যেকোনো উইকেটে প্রতিপক্ষের মাঠে
সবচেয়ে বেশি রান তোলায় টেস্ট
ইতিহাসে সাকিব-মুশির এই জুটি থাকল ১৪
নম্বরে। যে তালিকায় সবার ওপরে আছে
১৯৩৪ সালে ওভালে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে
বর্যান্ডম্যান-পন্সফোর্ডের ৪৫১ রানের
জুটিটি।
৫৪২ রান এখনো পর্যন্ত বিদেশে মাটিতে
বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয়
স্কোর। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে
গলে ৬৩৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। আর
সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরের
তালিকায় এটি আছে এখন চার নম্বরে।
৬৩৮ ছাড়া ঢকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের
বিপক্ষে ৫৫৬ ও খুলনায় পাকিস্তানের
বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৫৫৫ রান করেছিল
টাইগাররা।
প্রথমদিন শেষে বাংলাদেশের ঝুলিতে
জমা পড়েছিল ১৫৪ রান, তিন উইকেট
হারিয়ে।
প্রথমদিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও
সতর্কভাবে শুরু করেছিলেন মুমিনুল ও
সাকিব আল হাসান। তারা ভালো
ভাবে এগিয়েও নিচ্ছিলেন দলকে। কিন্তু
৪৪তম ওভারের তৃতীয় বলে মুমিনুল আউট
হয়ে গেলেন টিম সাউদির দুর্দান্ত এক
বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে।
মুমিনুল ৬৪ রান করে সাজঘরে ফিরে
গেলে দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের
ইনিংসে একটি ধাক্কা লাগে। অধিনায়ক
মুশফিকুর রহিম ও সাকিবের ওপর দায়িত্ব
পড়ে সে ধাক্কা সামলানোর। শুরুর এই
ধাক্কা সামলে ভালোভাবেই এগিয়ে
যায় বাংলাদেশ।
এর আগে প্রথম দিনে তামিম অর্ধশতক
করেন। তিনি খেলেন ৫০ বলে ৫৬ রানের
দারুণ একটি ইনিংস। অবশ্য খুব একটা
সুবিধা করতে পারেননি ইমরুল (১) ও
মাহমুদউল্লাহ (২৬)।

এখন থেকে রাস্তা বন্ধ করে কোথাও সমাবেশ করা যাবে না -ওবায়দুল কাদের

ফেঞ্চুগঞ্জ পতিদিন
নিউজ ডেস্ক:
এখন থেকে রাস্তা বন্ধ করে
কোথাও সমাবেশ করা হবে না বলে
জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী
লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল
কাদের। কর্মদিবসে রাজনৈতিক
কর্মসূচি না দিতে ঢাকা দক্ষিণ
সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ
খোকনের আহ্বানও বিবেচনায়
আছে তার। জানান, কেবল ছুটির
দিন মিছিল করার বিষয়টি নিয়ে
চিন্তাভাবনা করছেন তারা।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর
রাসেল স্কয়ারে আওয়ামী লীগের
পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণের
সময় এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের তিন
বছর পূর্তি উপলক্ষে এই আয়োজন
করে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী
লীগ।
নিত্য যানজটের শহর রাজধানীতে
বড় দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি
থাকলে ভোগান্তি চরমে উঠে।
মিছিল বা সমাবেশ হলে সড়ক বন্ধ
থাকলে যানজট কোনো একটি
এলাকার বদলে ছড়িয়ে যায় পুরো
শহরজুড়ে।
চলতি মাসেই ৪ জানুয়ারি
ছাত্রলীগের শোভাযাত্রা, পরদিন
রাজধানীর রাসেল স্কয়ার এবং
বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এবং ১০ জানুয়ারি
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী
লীগের সমাবেশের দিন চরম
ভোগান্তিতে পড়ে শহরবাসী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ
নিয়ে সরকারি দলের তীব্র
সমালোচনাও হয়।
গত ৯ জানুয়ারি রাজধানীর
পান্থকুঞ্জে পাবলিক টয়লেট
উদ্বোধনের সময় ঢাকা দক্ষিণ
সিটি করপোরেশনের মেয়র বড়
রাজনৈতিক দলগুলোকে ছুটির দিন
কর্মসূচি দেয়ার আহ্বান জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, যানজটের
কথা মাথায় রেখে সরকার বেশ
কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি
বলেন, ‘মাঝখানে একটু সমস্যা
হয়েছে, যে কারণে প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু কন্যা সুস্পষ্ট নির্দেশনা
যে রাস্তায় কোনো প্রোগ্রাম করা
যাবে না। এ ব্যাপারে আমি
সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি
সারা বাংলাদেশের সকলকে
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা,
দেশনেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ
থেকে এই নির্দেশনা দিচ্ছি যে,
রাস্তা বন্ধ করে কোনো সভা,
সমাবেশ বা কোনো কর্মসূচি
বাংলাদেশের কোথাও করা যাবে
না।’
ওবায়দুল কাদের যখন এই কথা
বলছিলেন, তখন তার শীতবস্ত্র
বিতরণকে ঘিরে জটলা মূল সড়কের
কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এ বিষয়টি
নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ
নেতা। বলেন, ‘আমি তাদেরকে
বলেছিলাম এই বস্ত্র বিতরণ আরও
ভিতরে করতে। এটা নেত্রীর
নির্দেশ। কিন্তু তারা এমনভাবে
করেছে, যে এটা রাস্তার
কাছাকাছি চলে এসেছে। তারপরও
আমি পুলিশের লোকজনকে বলবো,
অনুষ্ঠানের যখন ব্যবস্থা হয়ে গেছে
আপনারা এমন ব্যবস্তা করুন যেন
কোনোভাবে রাস্তা বন্ধ না হয়।
রাস্তায় গাড়ি চলাচল অব্যাহত
থাকবে এবং শীতবস্ত্র বিতরণ
অব্যাহত থাকবে।’
কর্মদিবসে সমাবেশ না করতে
মেয়র খোকনের অনুরোধ সরকারের
বিবেচনায় আছে বলেও জানান
ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘আমরা
চিন্তা ভাবনা করছি ছুটির দিনে
এই র্যালি করা যায় কি না।’
সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের তৃতীয়
বর্ষপূর্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে দেশবাসীর
পাশাপাশি বিএনপির সাধারণ
সমর্থকরাও খুশি হয়েছেন বলে মনে
করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি
বলেন, ‘শুধুমাত্র বিএনপির নেতারা,
যারা কর্মসুচি দিয়ে ঘরে বসে
হিন্দি সিরিয়াল দেখেন, সেই
নেতারা হতাশ।’ তিনি বলেন,
‘সংকটে আছে বিএনপি, দেশ
সংকটে নেই।’
রাজনৈতিক বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত
সংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই
হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের
বলেন, ‘সমঝোতা সব কিছুই হবে
সংবিধান অনুযায়ী। আমরা
সংবিধানের বাইরে যাবো না।
পরবর্তী নির্বাচন আমরা
সংবিধানের বাইরে যাবো না। উই
ক্যান নট গো বিলং
কনশটিটিউশন।’