মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৭

মাদ্রিদ আল-ইসলাহ'র সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতিকুর রহমান ফেঞ্চুগঞ্জে সংবর্ধিত



মঙ্গলবার: বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ স্পেন মাদ্রিদ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট এম সি কলেজ শাখার সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা আতিকুর রহমানকে মঙ্গলবার বিকেলে সংবর্ধনা প্রদান করেছে ফেঞ্চুগঞ্জ মাইজগাও ইউনিয়ন তালামীয। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্তিত ছিলেন সংগঠনের সিলেট (পূর্ব) জেলা সহ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন বাবু, মাইজগাও ইউনিয়ন আল ইসলাহ সভাপতি বদরুল ইসলাম বেলাল, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা তালামীযের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান উদ্দীন ছাদী, ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ সদস্য সচিব হাবিলুর রহমান জুয়েল।
অনুষ্ঠানে মাইজগাও ইউনিয়ন তালামীযের সভাপতি হাবিবুর রহমান মারুফের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এনামুল হক ইমনের উপস্তাপনায় বক্তব্য রাখেন অর্থ সম্পাদক আবু তাহেফ শিবলু, সহ-অফিস সম্পাদক ছাব্বির আহমদ, মিজানুর রহমান, জালাল উদ্দিন, লিমন আহমদ, মাহেদুল ইসলাম, প্রমুখ।

মার্চে ওসমানী থেকে চালু হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট


আগামী মার্চে ওসমানী বিমানবন্দর
থেকে চালু হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
আন্তর্জাতিক ঘোষণার প্রায় ১৮ বছর পর
১৮ মার্চ থেকে এই বিমানবন্দর হতে
ফ্লাই দুবাই’র ফ্লাইট চালু হবে বলে
জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা।
১৯৯৮ সালের ২০ ডিসেম্বর ওসমানী
বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর হিসেবে উন্নীত করা হয়।
ফ্লাই দুবাই’র সিলেটের স্টেশন
ম্যানেজার মাসুম মিয়া বলেন, আগামী
১৮ মার্চ হতে আমরা সিলেট থেকে
সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছি।
প্রথম তিন মাস ওসমানী থেকে সপ্তাহে
পাঁচদিন দুবাই, কাতার, সৌদি আরবসহ
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট
পরিচালিত হবে। তিন মাস পর সপ্তাহে
সাতদিনই ফ্লাইট থাকবে। ফ্লাই দুবায়ের
মাধ্যমে ওসমানীতে প্রথমবারের মতো
বিদেশী উড়োজাহাজও অবতরণ করতে
যাচ্ছে।
এরআগে ২০১৫ সালের ১ মে ওসমানী
বিমানবন্দরে অবরতরণ করে ফ্লাই দুবাই।
কিন্তু গ্রাউন্ড সার্ভিস না পাওয়ায় ১ মে
যাত্রী নিয়ে উড়াল দেওয়ার পর আর
ওসমানীতে অবতরণ করেনি এই বিদেশী
উড়োজাহাজ।
তবে এবার সব জটিলতার অবসান করে
ফ্লাইট চালু করা হচ্ছে বলে জানান মাসুম
মিয়া। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সিভিল
এভিয়েশনের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে।
ফ্লাই দুবাই সিলেট ওসমানী
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রিজেন্ট
এয়ারওয়েজের গ্রাউন্ড সার্ভিস নেবে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়,
সিলেট এম এ জি ওসমানী অন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের
ফ্লাইট ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে’র অনুমতি
রয়েছে। ফ্লাই দুবাই তাদের কাছ থেকে
অনুমতি নিয়ে গত বছর ফ্লাইট অপারেট শুরু
করে। কিন্তু এতে বেঁকে বসে বিমান
কর্তৃপক্ষ। বিমানের কাছ থেকে গ্রাউন্ড
হ্যান্ডেলিংয়ের অনুমতি না নেওয়ায় বন্ধ
হয়ে যায় ফ্লাই দুবাই’র ফ্লাইট।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, সিলেট
বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৬-৭শ’ জন
প্রবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে
যাতায়াত করেন। কোনো বিকল্প না
থাকায় বিমানের ফ্লাইটের উপরই তাদের
নির্ভর করতে হয়।
ওসমানী বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা
জানান, কেবল ফ্লাই দুবাই-ই নয়, এয়ার
এরাবিয়া, জেট এয়ারসহ কয়েকটি
বিদেশি কোম্পানি সিলেট থেকে
সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া
চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা
জানিয়েছেন। প্রবাসীবহুল অঞ্চল হওয়ায়
সিলেটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রী
রয়েছেন। তাই বিদেশী এয়ারওয়েজ
প্রতিষ্ঠানগুলো সিলেটে আসতে আগ্রহী।
সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৫০ লাখ প্রবাসী
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যসহ
বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। ওসমানী
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট না থাকায় দূর্ভোগ
পোহাতে হয় তাদের। আন্তর্জাতিক
ফ্লাইট চালুর জন্য তারা দীর্ঘদিন
থেকেই দাবি জানিয়ে আসছেন।
এরআগে ওসমানী থেকে বাংলাদেশ
বিমানের সিলেট-যুক্তরাজ্যে হিথ্রো
বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইট চালু চলেও
২০১৪ সালে কুয়াশার অজুহাত দেখিয়ে
বিমানও সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়।
প্রবাসীদের দাবির মুখে ২০১৫ সালে
প্রায় ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ওসমানী
বিমানবন্দরে স্থাপিত হয় রিফুয়েলিং
স্টেশন। গত বছর থেকে এই রিফুয়েলিং
স্টেশন চালু হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক
ফ্লাইট না থাকায় এই স্টেশনের
জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে না। ফলে চালুর
পর থেকেই লোকসানে ওসমানীর
রিফুয়েলিং স্টেশন।
এদিকে, রানওয়েসহ বিমানবন্দরের
সংস্কার হলে ওসমানী বিমানবন্দরে
আগামীতে নিয়মিতই আন্তর্জাতিক
ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে বলে মনে
করেন এই বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক
হাফিজ আহমদ।
তিনি জানান, ওসমানী বিমানবন্দরের
বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ে
শক্তিশালী করণের মাধ্যমে ওয়াইড বডি
বোয়িং ৭৭৭ মডেলের বিমানসহ অন্যান্য
ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ৪৫২ কোটি
টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া
হয়েছে। এখন কাজ শুরুর জন্য পরবর্তী
পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৭

বসন্ত এসে গেছে ...


নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ পহেলা ফাল্গুন। আগুনরাঙা বসন্তের
প্রথম দিন। প্রকৃতি আজ খুলে দেবে দখিন
দুয়ার। সে দুয়ারে বইবে ফাগুনের হাওয়া।
বসন্তের আগমনে কোকিল গাইবে গান,
ভ্রমর করবে খেলা। গাছে গাছে থাকবে
পলাশ আর শিমুলের মেলা। প্রকৃতি
সাজবে নতুনরূপে। জেগে উঠবে কৃষ্ণচূড়া,
রাধাচূড়া, পলাশ, নাগলিঙ্গম।
কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায়- ‘ফুল
ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত’। হ্যাঁ, আজ
ঋতুরাজ বসন্ত। সকল কুসংস্কারকে পেছনে
ফেলে, বিভেদ ভুলে, নতুন কিছুর প্রত্যয়ে
সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে
এসেছে বসন্ত। লাল-হলুদের বাসন্তী রঙে
প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের সাজিয়ে আজ
বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় আজ
ভাসবে বাঙালি। গাছে গাছে বাহারি
ফুল আর কোকিলের কন্ঠে গান শুনে
বাঙালিও কণ্ঠে তুলে নেবে
রবীন্দ্রনাথের সেই পরিচিত গান- ‘আহা
আজি এ বসন্তে, এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি
বাজে, এত পাখি গায়....।’
বসন্ত ষড়ঋতুর শেষ ঋতু। ফাল্গুন এবং চৈত্র
মাস মিলে হয় বসন্ত ঋতু। বসন্ত ঋতুর
আগমন ঘটে শীত চলে যাবার পর এবং
গ্রীষ্ম আসার আগে। বসন্তের প্রথম দিনে
তরুণ-তরুণীরা নিজেকে রাঙিয়ে তোলে
বাসন্তী রঙে। তাদের গায়ের বাসন্তী
রঙে ছেয়ে যায় রাজপথ, পার্ক, বইমেলা,
সবুজ চত্বর। পুরো দেশেই চলে উৎসবের
আমেজ। গায়ে হলুদ আর বাসন্তী রঙের
পাঞ্জাবি-শাড়ি জড়িয়ে তরুণ-তরুণীরা
এদিন নিজেদের রঙিন সাজে সাজান।
বসন্ত তাই তারুণ্যের ঋতু।
বাংলা পঞ্জিকা বর্ষের শেষ ঋতু
বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন
করে ‘পহেলা ফাল্গুন' বা 'বসন্ত উৎসব’
হিসেবে। বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন
প্রাণের উৎসবের মাঝে এ উৎসব এখন
গোটা বাঙালির কাছে ব্যাপক সমাদৃত।
মোগল সম্রাট আকবর ১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দে
প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন। নতুন
বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন
করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই
বসন্ত উৎসব। ১৪০১ বঙ্গাব্দ থেকে ‘বসন্ত
উৎসব’ উদযাপন শুরু হয়। ১লা ফাল্গুনকে
উপলক্ষ করে রাজধানীসহ সারা দেশে
নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রাজধানীর চারুকলার বকুলতলা,
বোটানিক্যাল গার্ডেন, রমনা পার্ক,
বনানী লেক, ধানমন্ডি লেক, রবীন্দ্র
সরোবর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ দেশের
অনেক জায়গায় দিনভর চলে বসন্তের
উৎসব। তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে মোবাইল
ফোন, ফেসবুক, টুইটারে চলে বসন্তের
শুভেচ্ছা বিনিময়।
বসন্ত শুধু অশোক-পলাশ-শিমুলেই
উচ্ছ্বাসের রং ছড়ায় না, আমাদের
ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে
শহীদদের রক্ত রঙিন পুষ্পিত রক্তের
স্মৃতির ওপরও রং ছড়ায়। ১৯৫২ সালের আট
ফাল্গুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের
সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর
বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন
মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।
বসন্তকে বরণ করে নিতে দেশের বিভিন্ন
জায়গায় আয়োজন করা হয় মেলা ও
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানমালার
মধ্যে থাকে ফুলের প্রীতি বন্ধনী
বিনিময়, আদিবাসী পরিবেশনা, শিশু-
কিশোরদের পরিবেশনা, একক আবৃত্তি,
দলীয় আবৃত্তি, দলীয় সংগীত, একক
সংগীত, বসন্ত আড্ডা, বাউল সংগীতসহ
অনেক কিছু। কোথাও কোথাও অনুষ্ঠিত হয়
বসন্ত শোভাযাত্রা।
বর্ণিল বসন্ত মানুষের মাঝে আনুক
ভালোবাসা, অহিংসা আর
অসাম্প্রদায়িকতা। ভেঙে দিক
বিভেদের সকল দেয়াল। সবাইকে বসন্তের
শুভেচ্ছা।

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৭

অফারের মাধ্যমে গ্রাহককে প্রতারণা, গ্রামীণফোনকে জরিমানা


অফারের মাধ্যমে গ্রাহককে
প্রতারণার দায়ে দেশের শীর্ষ
বেসরকারি মোবাইল ফোন
সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান
গ্রামীণফোনকে আড়াই লাখ টাকা
জরিমানা করেছে জাতীয়
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ
অধিদপ্তর।
আজ রোববার রাজধানীর কারওয়ান
বাজারের জাতীয় ভোক্তা-
অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে
কার্যালয়ে শুনানি শেষে এ
জরিমানা করেন উপপরিচালক
শাহীন আরা মমতাজ।
গত ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর
আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক নামের
এক ভোক্তা গ্রামীণফোনের
বিরুদ্ধে অফারে প্রতারণার এ
অভিযোগ করেন।
আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক লিখিত
অভিযোগে বলেন, ‘আমি দারুণ ঈদ
অফার নামের ২৮ দিন মেয়াদি এক
জিবির সঙ্গে দুই জিবি ফ্রি একটি
অফার কিনি। ভ্যাটসহ যার মূল্য ২৭৫
টাকা বলা হয়েছে।’
‘গত ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবরে
অফারটি গ্রহণ করি। আমার কাছ
থেকে ২৭৫ টাকা পরিবর্তে এসডি ও
ভ্যাটসহ ৩২৫ টাকা ৭৪ পয়সা নিয়ে
নেয় গ্রামীণফোন কোম্পানি। পরে
একটি এসএমএসের মাধ্যমে
জানানো হয়। বোনাসের মেয়াদ
অর্থাৎ ফ্রি ২ জিবির মেয়াদ সাত
দিন এবং ব্যবহারের সময় রাত ২টা
থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেওয়া হয়।’
আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিকের
অভিযোগ, বিশেষ ঈদ অফারের
এসএমএসে কোনো শর্তের বিষয়
উল্লেখ ছিল না।
জানা যায়, এ অভিযোগের
পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার
সংরক্ষণ আইনের ৪৪ ধারায় অর্থাৎ
মিথ্যা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে
প্রতারণার অভিযোগে দুই লাখ
টাকা এবং ৪৫ ধারায় অর্থাৎ
প্রতিশ্রুতি পণ্য যথাযথভাবে
সরবরাহ না করায় ৫০ হাজার টাকা
জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে অধিদপ্তরের উপপরিচালক
শাহীন আরা মমতাজ এনটিভি
অনলাইকে জানান, জরিমানার
টাকা দেওয়ার জন্য গ্রামীণফোন
পাঁচ কার্যদিবস সময় চেয়েছে।
আমরা তাঁদের সময় দিয়েছি।
শাহীন আরা মমতাজ বলেন, ফোন
কোম্পানিগুলো মিথ্যা তথ্য দিয়ে
ভোক্তাদের প্রতারিত করছে। যা
ভোক্তা অধিকার হরণ করে। এটা
মেনে নেওয়া যায় না। তিনি
আরো বলেন, প্রত্যেক ভোক্তাকে
সচেতন হতে হবে। আর এর জন্য
ভোক্তা অধিকা আইনগুলো
ভালোভাবে জানা থাকলে তাঁর
জন্য অভিযোগ করা সহজ হয়।

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৭

ফেঞ্চুগঞ্জ হাটুভাঙ্গা তালামীযের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত


বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া ফেঞ্চুগঞ্জ হাটুভাঙ্গা আঞ্চলিক শাখার শপথ পরবর্তী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুক্রবার দুপুর ২ টায় অনুষ্ঠিত  হয়। কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন মাইজগাও ইউনিয়ন আল ইসলাহ সভাপতি বদরুল ইসলাম বেলাল, প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা তালামীযের সভাপতি সাইফুর রহমান সজিব, সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন আহমদ, সহ- প্রচার সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম কুদ্দুছ, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্তিত ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ সদস্য সচিব হাবিলুর রহমান জুয়েল, মাইজগাও ইউনিয়ন সভাপতি হাবিবুর রহমান মারুফ, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক ইমন, সহ- প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক আবু তাহেফ শিবলু, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জাহির আহমদ, সহ- প্রশিক্ষণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন।

পরিবহন ধর্মঘটে অচল সিলেটের ৩ উপজেলা, দুর্ভোগে হাজারও মানুষ


অটোরিকশা শ্রমিকদের ডাকা
অনির্দিষ্টককালের পরিবহন ধর্মঘটে অচল
হয়ে পড়েছে সিলেটের ৩ উপজেলা।
ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব উপজেলার
হাজারও যাত্রী।
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (১০
ফেব্রুয়ারি) গোলাপগঞ্জ পৌরশহরের
স্থানীয় টিকরবাড়ি এলাকাবাসী ও
অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যকার
সংঘর্ষের ঘটনায় শনিবার থেকে
অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক
দেয় গোলাপগঞ্জ সিএনজি অটোরিকশা
শ্রমিক ইউনিয়ন।
ধর্মঘট আহ্বানের পর গোলাপগঞ্জ
সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের
সভাপতি মাখন মিয়া জানান,
গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে পরিবহন
শ্রমিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও
সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুরের
প্রতিবাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য এ
পরিবহন ধর্মঘট ডাক দেয়া হয়েছে।
শনিবার থেকে গোলাপগঞ্জ,
বিয়ানীবাজার ও জকিগঞ্জে সব ধরণের
যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
ধর্মঘটের ফলে শনিবার সকাল থেকে
সিলেট-জকিগঞ্জ, সিলেট-বিয়ানীবাজার
রুটে বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে। ফলে
ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই সব রুটের
হাজারও যাত্রী।
জানা গেছে, সংঘর্ষের বিষয়টি
সমাধানের জন্য গোলাপগঞ্জ বাজার
বণিক সমিতির সভাপতি আজিজুর রহমান
চৌধুরীসহ এলাকার মুরব্বীরা পৃথক বৈঠক
করলেও কোনো সমাধানে পৌঁছতে
পারেননি।
এদিকে, ধর্মঘট চলাকালে শনিবার দুপুর
১২টার দিকে গোলাপগঞ্জের চৌমোহনায়
এলাকাবাসী ও সিএনজি চালকদের মধ্যে
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তবে কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া
যায়নি।

ফেঞ্চুগঞ্জে বেড়ে চলেছে শিশুশ্রম: বন্ধে নেই কার্যকর কোন পদক্ষেপ

 সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে
সময়ের সাথে বেড়েই চলছে শিশুশ্রম।
যে বয়সে শিশুরা পাঠশালায় যাওয়ার
কথা, যে বয়সে তাদের খেলার কথা,
ঠিক সে বয়সে তারা জীবনের ঝুঁকি
নিয়ে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত। এসব
শিশুশ্রমের কারণে শিক্ষা থেকে
বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। শিশুরা এই অল্প
বয়সে অতিরিক্ত শ্রম দেওয়ায় মানসিক
ও শারীরিক ভাবে বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে। ফলে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ
অন্ধকারে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশে
শিশুশ্রম বন্ধ করার জন্য সরকারি
বেসরকারি বহু সংস্থা কাজ করলেও
তার কোন কার্যকর প্রভাব ফেঞ্চুগঞ্জে
পড়েনি। নেই কোন আইনগত পদক্ষেপ।
ফেঞ্চুগঞ্জের উপজেলার এশিয়া
বেকারি, কুশিয়ারা বেকারি রয়েলফুড,
বিভিন্ন চায়ের দোকান, হোটেল, লেদ
মিশেনের কারখানা, ওয়ার্কশপ,
বাসাবাড়ির কাজে নিয়োজিত রয়েছে
প্রায় ৫হাজার শিশু। শিশু শ্রমিকদের
অল্প পারিশ্রমিক দিয়ে বেশি কাজ
করানো সম্ভব বলে অনেকেই শিশুদের
দিয়ে ভারী কাজ করিয়ে ফেলেন।
শনিবার (১১) ফেব্রুয়ারি সকালে
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় শিশু
শ্রমিকদের কষ্টকর দৃশ্য। শিশু শ্রমিকরা
তাদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে
পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি
ফুটানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝুঁকিপূর্ণ
কাজ করছে। অনেকেই এসব কাজ করতে
গিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করছে। এ বিষয়ে কথা
বলতে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী
অফিসার হুরে জান্নাতের মুঠোফোনে
একাধিকবার কল দিলে তিনি কল
ধরেননি।

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭

ফেঞ্চুগঞ্জের পশ্চিম কর্মধা তালামীযের কমিটি গঠন

ফেঞ্চুগঞ্জের পশ্চিম কর্মধা তালামীযের কমিটি গঠনঃ


________________________
১০ফেব্রুয়ারী: বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া ফেঞ্চুগঞ্জ ২ নং মাইজগাও ইউনিয়ন শাখার আওতাধীন পশ্চিম কর্মদা আঞ্চলিক শাখার কাউন্সিল অধিবেশন শুক্রবার দুপুরে পশ্চিম কর্মদা জামে মসজিদে অনুষ্টিত হয়।
 প্রধান নির্বাচক হিসাবে উপস্তিত ছিলেন মাইজগাও ইউনিয়ন সভাপতি হাবিবুর রহমান মারুফ, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন  মাইজগাও ইউনিয়ন ভারপাপ্ত সাদারণ সম্পাদক এনামুল হক ইমন,অর্থ সম্পাদক আবু তাহেফ শিবলু
কাউন্সিলে ইবরাহিম আহমদকে সভাপতি,সায়েদ আহমদকে সহ সভাপতি, পায়েল আহমদকে সাধারণ সম্পাদক জাহেদ আহমদ কে সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদ কে প্রচার সম্পাদক লিটু আহমদ কে অর্থ সম্পাদক নির্বাচিত করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৭

সিলেটের রাজনীতিতে নেতৃত্ব শূন্যতা


সরকারে ছিলেন না, দলেও প্রভাব কমে
গিয়েছিলো। তবু এতদিন শারীরিকভাবে
উপস্থিত ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
ছিলেন সিলেটের রাজনীতির অভিভাবক
হয়ে। ৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে তিনিও চলে
গেলেন। সুরঞ্জিতের এই মৃত্যুতে
সিলেটের রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে
নেতৃত্ব শূন্যতা।
২০০১ সালে সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ
চৌধুরীর মৃত্যুর মাধ্যমে যে শূন্যতার সৃষ্টি
হয়েছিলো সুরঞ্জিত সেনগুপ্ততে এসে তা
তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর-মাঝখানে
চলে গেছেন দেশের প্রথম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ,
বিপ্লবী বরুণ রায়, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম
সাইফুর রহমান ও শাহ এএমএস কিবরিয়া,
সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী,
সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামুল হক
মোস্তফা শহীদ ও সৈয়দ মহসিন আলীসহ
আরো কয়েকজন জাতীয় নেতা।
ওয়ান-ইলিভেন বিতর্কে রাজনীতি থেকে
অনেকটা দূরে সরে পড়েছেন আওয়ামী
লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক
সুলতান মুহাম্মদ মনসুর।
নানা বিতর্ক সত্ত্বেও আঞ্চলিক
রাজনীতিতে নিজের অবস্থান গড়ে
তুলেছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক
সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী। তিনিও
নিখোঁজ রয়েছেন ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল
থেকে।
আর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে রাজনীতিতে
থেকে দূরে রয়েছেন বিএনপির সাবেক
ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।
এদের বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি না হওয়ায় ও
নতুন নেতা গড়ে না উঠায় এই সঙ্কট আরো
তীব্র হয়েছে বলে জানান রাজনীতি
সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম
নাহিদ ছাড়া দুই প্রধান রাজনৈতিক
দলের শীর্ষ নীতি নির্ধারণী কমিটিতে
নেই সিলেটের কোনো নেতা। নাহিদ
আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিলের
প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনীত হন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের
আহ্বায়ক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী মনে
করেন, এখানকার নেতারা দলীয় বৃত্তের
মধ্যে বন্দি। এমনকি দলের মধ্যেও সবার
কাছে তারা গ্রহণযোগ্য নন। দলের
ভেতরের গ্রুপ উপগ্রুপের নেতা তারা।
ফলে দল ছাপিয়ে জাতীয় নেতা, সব
মানুষের নেতা হয়ে উঠতে পারছে না।
সুরঞ্জিত সেনরা যে দল ছাপিয়ে সকলের
নেতা হয়ে উঠতে পেরেছিলেন তার
প্রমাণ মিলেছে সোমবার সিলেট
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও। জামায়াত
ছাড়া প্রায় সব দলের নেতারাই এদিন
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মরদেহে শ্রদ্ধা
জানাতে আসেন। শ্রদ্ধা জানাতে
এসেছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের
মেয়র (সাময়িক বহিষ্কৃত) ও বিএনপি
নেতা আরিফুল হক চৌধুরীও। যিনি
সুরঞ্জিত সেন হত্যাচেষ্টা মামলারও
আসামী।
এ ব্যাপারে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন,
সাইফুর রহমান, সুরঞ্জিত সেনরা অনেক
উঁচু মাপের মানুষ ছিলেন। তাঁদের মতো
মানুষ হয় না। আমাদের শ্রদ্ধা তাদের
প্রাপ্য।
বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি না হওয়ার জন্য
প্রয়াত নেতারাও ‘অনেকাংশে দায়ী’
বলে মনে করেন ফারুক মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, এইসব নেতারা তাদের
বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি করে যাননি। হয়তো
তাঁরা মনে করেছেন বিকল্প তৈরি করলে
প্রতিদ্বন্দ্বী বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়া ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া
দলের ভেতরে নেতৃত্বের চর্চা না
থাকাকেও নেতৃত্ব শূন্যতা দেখা দেওয়ার
অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়
আসার পর সিলেট বিভাগের নেতাদের
মধ্যে আব্দুস সামাদ আজাদ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
স্পিকার, শাহএএমএস কিবরিয়া
অর্থমন্ত্রী ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার
দায়িত্ব পান।
তবে পরেরবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়
আসার পর এই সংখ্যা নেমে আসে তিনে।
মন্ত্রী হন আবুল মাল আবদুল মুহিত, নুরুল
ইসলাম নাহিদ ও এনামুল হক মোস্তফা
শহীদ। চলতি সরকারে অসুস্থ মোস্তফা
শহীদের বদলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
মৌলভীবাজারের সাংসদ সৈয়দ মহসিন
আলী। তাঁর মৃত্যুর পর এখন সিলেটের
নেতাদের মধ্যে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে
আছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত ও
শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন নুরুল
ইসলাম নাহিদ।
কেবল মন্ত্রীসভা নয়, মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত
আব্দুস সামাদ আজাদ ও সর্বশেষ
কাউন্সিলের পূর্ব পর্যন্ত সুরঞ্জিত
সেনগুপ্ত প্রেসিডিয়ামে থেকে দলেরও
অন্যতম নীতিনির্ধারক ছিলেন। এখন
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামে
রয়েছেন কেবল নাহিদ।
বিএনপির সর্বশেষ শাসনামলে
অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এম সাইফুর
রহমান। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী
ফোরাম স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী
সদস্য ছিলেন তিনি। সেবার
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা
ছিলেন সিলেটের আরেক নেতা হারিছ
চৌধুরী। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর
দেশ ছেড়ে যান হারিছ চৌধুরী। এরপর
আর তিনি দেশে ফিরেননি। আর সাইফুর
রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির শীর্ষ
নীতিনির্ধারণী ফোরামে ঠাঁই হয়নি
সিলেটের কোনো নেতার।
কেবল আওয়ামী লীগ বিএনপি নয়,
সিলেটের বাম রাজনীতিতে রয়েছে
নেতৃত্বের সঙ্কট। একসময় বরুণ রায়, পীর
হবিবুর রহমান, আব্দুল হামিদের মতো
নেতারা পুরো দেশের বাম রাজনীতিকে
নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৯ সালের ৮
ডিসেম্বর বিপ্লবী বরুণ রায়ের মৃত্যুর পর
এই ধারায়ও দেখা দেয় শূন্যতা।
সিলেটের অন্যান্য জাতীয় নেতাদের
মধ্যে ২০০১ সালের ১ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী,
২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল আব্দুস সামাদ
আজাদ, ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর
দেওয়ান ফরিদ গাজী, ২০১৫ সালের ১৪
সেপ্টেম্বর সৈয়দ মহসিন আলী, ২০১৬
সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এনামুল হক
মোস্তফা শহীদ মারা যান।
আর ২০০৪ সালের ২৭ হবিগঞ্জের নিজ
এলাকায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন
শাহএএমএস কিবরিয়া ও ২০০৯ সালের ৫
সেপ্টেম্বর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে
দুর্ঘটনায় নিহত হন এম সাইফুর রহমান।
সিলেটের বাসিন্দা, বাংলাদেশ
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম
জাকির হোসাইন মনে করেন, তরুণদেরই এই
শূন্যতা পূরণ করতে হবে।
জাকির বলেন, আমরা যারা তরুণ
আমাদেরকে প্রয়াত হওয়া জাতীয়
নেতাদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে
নিজেদের তাদের মতো গড়ে তুলতে হবে।
গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতির
দায়িত্বে আছেন সিলেটের নেতা
ব্যারিস্টার আরশ আলী। তিনি বলেন,
আগে যারা রাজনীতি করতেন তারা
অনেক পড়াশোনা করতেন। রাজনীতি,
সমাজনীতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি
নিয়ে তাদের অনেক জানাশোনা
ছিলো। ফলে তাদের নিয়ে হয়তো অনেক
সমালোচনা করা যাবে কিন্তু তাদের
মেধা ও প্রজ্ঞাকে অস্বীকার করা যাবে
না। এখন যারা রাজনীতি করছেন তাদের
মধ্যে পড়াশোনার অভাব।
তবু আশাবাদ ব্যক্ত করে আরশ আলী বলেন,
কোনোকিছু তো শূন্য থাকবে না। এই
শূন্যতাও পূরণ হবে। আশা করছি, ভালো
কিছু দিয়েই পূর্ণ হবে।

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৭

লালাখালে পানিতে ডুবে দুই মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু


সিলেটের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র
জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখালে
বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা
গেছেন দুই পর্যটক। নিহতরা
কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল
কলেজের ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হাসান
মো. সাঈদ (২৫) ও ইসহাক ইব্রাহিব শশী
(২৫) নামে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
করা হয় বলে জানান জৈন্তাপুর থানার
ওসি শফিউল কবির।
তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জের মেডিকেল
কলেজের ৫/৬ জন শিক্ষার্থী মঙ্গলবার
বিকেলে লালাখাল বেড়াতে
এসেছিলেন। লালাখালে মিস্ত্রিঘাট
এলাকায় নদীতে গোসল করতে নেমে
চোরাবালিতে ডুবে যান সাঈদ। তাকে
উদ্ধার করতে গিয়ে শশীও তলিয়ে যান
চোরাবালিতে। সন্ধ্যার দিকে
এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তাদের
উদ্ধার করা হয়। পরে জৈন্তাপুর উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে
কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সাঈদের বাড়ি ঢাকা ও ইসহাক বাড়ি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে। দু’জনের পরিবারের
সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে
বলে জানান ওসি।
উল্লেখ্য, সিলেটের অন্যতম পর্যটন স্পট
লালাখাল পান্না সবুজ জলের জন্য
বিখ্যাত। ভারতীয় পাহাড় থেকে নেমে
আসা এখানকার নদীতে ঘুুরে বেড়ানো
পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষন। তবে
লালাখালে নদীতে সাঁতার কাটতে
গিয়ে ও চোরাবালিতে আটকে বিভিন্ন
সময় প্রাণহারান পর্যটকরা।

সোমবার, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৭

ফেঞ্চুগঞ্জের মানিককোনায় মাদকাসক্ত স্বামীর বর্ববর নির্যাতনে স্ত্রীর জীবন সংকটে

ফেঞ্চুগঞ্জের
মানিককোনা পশ্চিম পাড়ায়
মাদকাসক্ত স্বামীর বর্ববর নির্যাতনে
চার সন্তানের জননী আসমত আরার
জীবন এখন সংকটে। তিনি ওসমানী
হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা
লড়ছেন।
সংসার চালাতে কাজ করেন সরকারী
সড়ক নির্মানে। যা আয় হয় তাই তুলে
দিতে হয় স্বামীর হাতে। নইলে
অমানবিক নির্যাতন।
এমন বর্বরতার ঘটনা ঘটে গত ২
ফেব্রুয়ারি রাতে। সড়কের কাজ শেষে
রাতে বাড়ি ফিরে টাকা দিতে না
পারায় ক্ষেপে যায় তার মাতাল
স্বামী। দা দিয়ে এলোপাতাড়ি
কোপাতে থাকে স্ত্রীকে। মাকে
বাঁচাতে বাচ্চারা এগিয়ে এলে তাদের
লাথি দিয়ে সরিয়ে দেয় পাষণ্ড বাবা।
আসমত আরার আহাজারিতে পাড়া
পড়শি ছুটে এলে পালিয়ে যায় স্বামী
রফিক আলী।
পরে আসমত আরাকে ফেঞ্চুগঞ্জ
উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে
কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীকে দ্রুত
সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তির
পরামর্শ দেন। ওসমানীতে ভর্তি হয়ে
চিকিতৎসা নিলেও তার জীবন ঝুঁকি
মুক্ত নয়
। দায়ের কোপে হাতের আঙ্গুল উড়ে
গেছে, মাথায় ১৮০ টি সেলাই নিয়ে
মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন হতভাগী
দিনমজুর আসমত আরা। তার ভাই সানরুল
ইসলাম বলেন আমরা এলাকায়
পঞ্চায়েতি বিচার পাইনি আর রোগীর
জীবন সংকটাপন্ন থাকায় মামলার সময়
মিলেনি।
আজ তারা ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় মামলা
দায়ের করবেন বলে জানানো হয়েছে।

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৭

ফেঞ্চুগঞ্জে দুই ভাইয়ের অজানা বিরল রোগ

তাজেম
(৮) ও তাজিম
(৬)। এ বয়সে যাদের পাঠশালায়
যাওয়ার এবং গ্রামের মেঠোপথে
দুরন্তপনার সময়। কিন্তু তাদের দুই ভাই
বের হতে পারছেন না ঘরের গণ্ডি
থেকে। কেননা; জন্মের পর থেকেই
তাদের শরীরে বাসা বেঁধেছে অজানা
বিরল রোগ।
এ রোগের কষ্টভোগ করে জীবনকে কুরে
কুরে খাচ্ছে, আর জীবনটা বিষিয়ে
উঠেছে। ডাক্তারের ভাষায় বিরল এই
রোগের নাম ‘ডুসেন মাস্কুলার
ডিস্ট্রোফি’। তাদের গ্রামের বাড়ি
উপজেলার বাদেদেউলিতে। বাবা ইতুর
আলী দিনমজুর। অর্থনৈতিক দৈনদশার
কারনে দুই ছেলের এমন বিরল রোগের
আধুনিক চিকিৎসা করাতে পারছেন না
তিনি।
ইতুর আলী জানান, জন্মের পর থেকে
ছেলে দুটি শুকিয়ে যাচ্ছিলো। তাদের
বুকের পাজরসহ শরীরের বিভিন্ন
হাড়গুলো দৃশ্যমান হয়ে যায়। প্রাথমিক
ভাবে ডাক্তার-কবিরাজি করিয়ে লাভ
হয়নি। পরবর্তীতে স্থানীয় এলাকার
মকসুদ চৌধুরীর সহায়তায় সিলেট শহরে
ড: দিপংকর নাথের কাছে তাদের
দুভাইকে নিয়ে গেলে এ রোগ ধরা পড়ে।
এ চিকিতসা ব্যয়বহুল ও সফল হবার
সম্ভাবনা কম শুনে নিরাশ হয়ে
পড়েছেন তারা। এজন্য তারা বাবা
সমাজের মানবিক বিত্তবানদের
সহায়তা কামনা করেন।
বিষয়টি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী
অফিসার হুরে জান্নাতকে জানালে
তিনি এই প্রতিবেদকে বলেন, ‘আপনি
বিস্তারিত জানুন, মেডিকেল বোর্ড
গঠন করে দেখা যাবে কি করা যায়।’
সিলেট সিভিল সার্জন ড: হাবিবুর
রহমান বলেন, রুগী না দেখে তেমন কিছু
বলা যাবে না। তবে রোগ জটিল
অবস্থায় না গেলে চিকিতসা হতে
পারে। তিনি রুগীদের সিলেট এম,এ,জি
ওসমানী হাসপাতলের শিশু বিভাগে
ভর্তি করার পরামর্শ দেন।

শনিবার, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৭

সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:
সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা
নিষেধাজ্ঞা সাময়িক স্থগিত করেছেন
ওয়াশিংটনের একটি আদালত।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি)
সিয়াটল শহর আদালতের বিচারক জেমস
রবার্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ স্থগিত
করেন।
ওই স্থগিতাদেশের ফলে নিষেধাজ্ঞায়
থাকা সাতটি মুসলিম দেশের
নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আর
কোনো বাধা থাকল না। এই সপ্তাহের
মধ্যেই আদেশের পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রকাশ
করা হবে।
এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে
অবস্থানরত বৈধ ভিসাধারী অভিবাসী ও
শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর
ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সাময়িক
স্থগিত করেন দেশটির আরেকটি আদালত।
সাতটি মুসলিম দেশ ও শরণার্থীদের
যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি
করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই সাতটি দেশ
হলো সিরিয়া, ইরান, ইরাক, লিবিয়া,
সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র থেকে
ইসলামী জঙ্গিদের দূরে রাখার জন্য এটি
একটি পদক্ষেপ। আমরা তাদের এখানে
চাই না। যারা আমাদের সেনাদের জন্য
হুমকি, তাদের আমরা নিতে পারি না।
আমরা তাদেরই নেব, যারা আমাদের
দেশ ও দেশের মানুষকে গভীরভাবে
ভালোবাসে।"
গত ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম
প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডোনাল্ড
ট্রাম্প। এর আগে ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত
ভোটে ডেমোক্র্যাট দলের হিলারি
ক্লিনটনকে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে
হারিয়ে দেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার দিনই
যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে লাখ লাখ
মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এদের বেশির
ভাগই নারী। তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
স্লোগান দেয়।
ভোট গ্রহণের আগেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ আসতে
থাকে। অনেক নারী সংবাদ সম্মেলনে
যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়ী হওয়ার পরও
তাঁর বিরুদ্ধে এক নারী যৌন হয়রানির
মামলা করেছেন।

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০১৭

ফেঞ্চুগঞ্জ হাটুভাঙ্গা তালামীযের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন


বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে
ইসলামিয়া ফেঞ্চুগঞ্জ হাটুভাঙ্গা
আঞ্চলিক শাখার অভিষেক ও শপথ গ্রহণ
শুক্রবার বাদ আছর হাটুভাঙ্গা জামে
মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে শাখা সভাপতি কামরান
হুসেনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি
জাবেদ আহমদের সঞ্চালনায় প্রধান
অতিথির বক্তব্য রাখেন মাইজগাও ইউনিয়ন
আল ইসলাহ সভাপতি বদরুল ইসলাম বেলাল।
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা তালামীযের সহ-
প্রচার সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম কুদ্দুছ,
ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ সদস্য সচিব
হাবিলুর রহমান জুয়েল, মাইজগাও ইউনিয়ন
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক
ইমন, অর্থ সম্পাদক আবু তাহেফ শিবলু,
হাটুভাঙ্গা আলিম মাদরাসা শাখার
সাধারণ সম্পাদক হাফিজ জুয়েল আহমদ।
অনুষ্ঠানে উপস্তিত ছিলেন শাখার সহ-
সভাপতি সুমন আহমদ, সুহেল আহমদ, কবির
উদ্দীন, ইসহাক আহমদ পলাশ, সহ-সাধারণ
সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ, সাংগঠনিক
সম্পাদক তাজুল ইসলাম শাকিল, প্রমুখ।

ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী
থেকে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে
পুলিশ। নিহতদের পিতার পরিবারের
পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায়
গ্রেপ্তার নিহতের স্বামী ও ভাসুরের
স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে
জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে
কুশিয়ারা নদী থেকে জনি রানী দাস
(২২) নামের এই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে
ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ। জনি রানী
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার
তালিমপুর ইউনিয়নের গগড়া গ্রামের
সজল কান্তি দাসের মেয়ে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেঞ্চুগঞ্জ পুলিশ
লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ
হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
জনির লাশ উদ্ধারের খবরে তাঁর বাবার
বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। মা
শেলি রাণী দাসসহ পরিবারের
সদস্যদের মাতমে এলাকার আকাশ
বাতাস ভারী হয়ে উঠে।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৮
জানুয়ারি) শ্বশুর বাড়ি সিলেটের
গোলাপগঞ্জ উপজেলার আলমপুর থেকে
রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন গৃহবধূ জনি
রানী দাস। হঠাৎ করে গৃহবধূর
নিখোঁজের বিষয়টি তাঁর স্বামী ও
শ্বশুর বাড়ির লোকজন অন্যের সাথে
পালিয়েছে বলে এলাকায় প্রচার করতে
থাকে। কিন্তু মেয়ের শ্বশুর বাড়ির
লোকজনের কথায় নিহতের পিতার
সন্দেহ হয়।
নিখোঁজের তিনদিনের মাথায়ও সন্ধান
না পাওয়ায় (৩০ জানুয়ারি) সোমবার
জনির বাবা সজল কান্তি দাস
গোলাপগঞ্জ থানায় নিহতের স্বামী
রঙ্গেস দে ও রঙ্গেসের বড় ভাইয়ের
স্ত্রী শিল্পী রানী দেবকে আসামী
করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা নং-১৯। থানায় দায়ের করা
মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ গৃহবধূ জনির
স্বামী রঙ্গেস দে ও তার বড় ভাইয়ের
স্ত্রী শিল্পী রানী দেবকে গ্রেপ্তার
করে।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশি
জিজ্ঞাসাবাদে শিল্পী রানী দেব ও
নিহতের স্বামী রঙ্গেস জনি রানীকে
হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার
করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার
ঘটনা সংক্রান্তে পুলিশকে বিভিন্ন
তথ্য প্রদান করে। গ্রেপ্তারের পরদিন
আদালতে নিহতের ভাসুরের স্ত্রী
শিল্পী রানী দেব জনিকে হত্যার কথা
স্বীকার করে কার্যবিধির ১৬৪ ধারায়
জবানবন্দি প্রদান করে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি)
সকালে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায়
কুশিয়ারা নদীতে অজ্ঞাত এক নারীর
লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন
পুলিশে খবর দেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে
খবর পেয়ে কুশিয়ারা নদী থেকে
ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই সবুজ
কুমার নাইডু অজ্ঞাত এই নারীর লাশ
উদ্ধার করেন। এরই মধ্যে অজ্ঞাত
নারীর লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে
ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় হাজির হন নিহত
জনি রানী দাসের বাবা সজল কান্তি
দাস। থানায় তিনি লাশটিকে তার
মেয়ে জনি রানীর বলে সনাক্ত করেন।
নিহতের পিতা সজল কান্ত দাস বলেন,
গোলাপগঞ্জে স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির
লোকজন তার মেয়ে জনি রাণী দাসকে
হত্যা করে অজ্ঞাত স্থানে লাশ ফেলে
দেয়। তারা আমার মেয়েকে হত্যার পর
লাশ গুম করে মিথ্যা নিখোঁজের নাটক
সাজায়। আমার সন্দেহ হওয়ায় আমি
আমার মেয়ের জামাই ও মেয়ের
ভাসুরের স্ত্রী শিল্পি রানীকে
আসামি করে গোলাপগঞ্জ থানায়
মামলা করি। আমি আমার মেয়ের
হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
চাই।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই সবুজ
কুমার নাইডু জানান, ‘ বৃহস্পতিবার
সকালে স্থানীয়রা কুশিয়ারা নদীতে
অজ্ঞাত এক নারীর মৃতদেহ ভাসতে
দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে
আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের
সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করি। লাশ
থানায় নিয়ে আসার পর নিহতের পিতা
লাশ তাঁর মেয়ে জনি রানী দাসের
বলে সনাক্ত করেন। পরে লাশ
ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ
করা হয়।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ থানার পুলিশ
পরিদর্শক (তদন্ত) মীর মোহাম্মদ আব্দুন
নাসের বলেন, ‘নিহত জনি রানীর লাশ
উদ্ধারের খবর পেয়েছি। গত সোমবার
নিহতের পিতা থানায় মেয়ের স্বামী
ও স্বামীর বড় ভাইয়ের স্ত্রীর নামে
মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে
পুলিশ নিহতের স্বামী ও স্বামীর বড়
ভাইয়ের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে
তাঁরা জনিকে হত্যার কথা পুলিশের
কাছে স্বীকার করে। পরদিন আদালতে
নিহতের ভাসুরের স্ত্রী শিল্পি রানী
দাস জনিকে হত্যার কথা স্বীকার করে
কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি
প্রদান করে।